নাগরিকত্ব বাতিলে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা সংবিধান বিরোধী: আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ভবন
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রচেষ্টা আবারও বাধার মুখে পড়েছে। গেল বছর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হওয়ার পর নতুন করে জারি করা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ আটকে দিয়েছেন দেশটির এক ফেডারেল বিচারক। আদালত জানিয়েছেন নাগরিকত্ব বাতিলে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা সংবিধান বিরোধী।

দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকেই অভিবাসন নিয়ে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে নামিয়ে আনাই তার অন্যতম লক্ষ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকটি পদক্ষেপে কেবল অবৈধ নয়, বৈধ অনেক অভিবাসী এমনকি গ্রিনকার্ডধারীরাও পড়েছেন বিপাকে।

২০২৫ সালে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। যেখানে বলা হয়েছিল, যাদের বাবা-মা মার্কিন নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী, কেবল তাদের সন্তানরাই জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাবে। যদিও মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গেল ৩০ জুন সেটি বাতিল করে দেন। আদালত জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টা মার্কিন সংবিধানের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ১৪তম ধারা সংশোধনীর লঙ্ঘন।

এরপর গেল ৬ আগস্ট নতুন আরেকটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। যেখানে মূলত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বার্থ ট্যুরিজমের ওপর। সন্তান জন্মের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেন, সেসব অভিভাবকদের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ে প্রমাণ দাখিল করতে হবে। যদি কোনো অভিভাবক যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করেন, নাগরিকত্ব পেতে প্রতারণা বা জালিয়াতির আশ্রয় নেন কিংবা শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হন, তাহলে তাদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাবে না।

শুধু তাই নয়, সন্তানের পাসপোর্ট আবেদনে বাবা-মা বা আইনি অভিভাবকদের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট, জন্ম-নিবন্ধন ও গ্রিনকার্ড জমা দিতে হবে। এর আগে কেবল ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখালেই হতো।

তবে ট্রাম্পের এই নতুন আদেশটিও এবার পড়েছে আইনি বাধায়। অভিবাসী অধিকার কর্মীদের অনুরোধে মেরিল্যান্ডের মার্কিন ফেডারেল বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যান প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এই নীতিকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও সোশ্যাল সিকিউরিটিসহ বিভিন্ন সংস্থাকে পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও, ট্রাম্পের নতুন নীতির বিরুদ্ধে নিউহ্যাম্পশায়ারে আরও একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তবে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউজ। ফেডারেল সংস্থাগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ কীভাবে বাস্তবায়ন করবে সে বিষয়ে কোন নির্দেশনা নেই।

ইএ