গতকাল (বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর) রাতে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) রংপুরে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আজ (বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বুধবার মামলার বাদী তার মোবাইলফোনে সফটওয়্যার আপডেট সংক্রান্ত একটি মেসেজ দেখতে পান। মেসেজটি দেখার পর তার মোবাইলফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হতে শুরু করে এবং মোবাইলের ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও তিনি মোবাইলফোনটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি।
পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে চালু হলে তিনি মেসেজের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তার ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে তিনি দেখতে পান, তার হিসাব থেকে বিভিন্ন হিসাবে সর্বমোট ৯ লাখ ৮৬ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাদী পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করলে মামলাটি সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তকালে ব্যাংক হতে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত দু’জনকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম বুধবার রাতে রংপুরে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মামলার ১ নম্বর আসামি সৌরভকে রংপুরের ডিসি বাংলোর মোড় সংলগ্ন গোমস্তপাড়া এলাকা থেকে দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে এবং ২ নম্বর আসামি মো. সাগর হোসেনকে চিকলীর হনুমানতলা এলাকা থেকে রাত ২টা ৩৫ মিনিটে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় সৌরভের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ৩টি চেক বই, ১টি ভিসা প্লাটিনাম কার্ড, ১টি ভিসা ডেবিট কার্ড, একটি বাটন ফোন এবং একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সাগর হোসেন জানান, তিনি ফেসবুক ও টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারকচক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণ করতেন। পরবর্তীতে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ উত্তোলন করে অনলাইন মাধ্যমে দেশের বাইরে অবস্থানরত সহযোগীদের কাছে পাঠাতেন তিনি। এর বিনিময়ে কমিশন পেতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার দু’জনের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়।





