এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের বিষয়টি নতুন করে সামনে এলো। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে মিনাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল। গত ১ সেপ্টেম্বর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)–এর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার ও যোগাযোগ স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে বিমান হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
কুহেস্তাকের ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি, কারণ স্বাভাবিকভাবেই আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা সত্যিটা জানতে চাই।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার রাতে কুহেস্তাকের একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অনুষ্ঠান চলাকালে বাড়ির ছাদে সরাসরি কোনো যুদ্ধাস্ত্র আঘাত হানে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞ গ্যারেথ কলেট জানান, নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ব্যবস্থায় পরিচালিত হলেও বিপুলসংখ্যক বোমা নিক্ষেপের সময় এমন লক্ষ্যভ্রষ্ট ঘটনা ঘটে থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ১ সেপ্টেম্বর কুহেস্তাক এলাকায় হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী এবং তাদের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় টেলিযোগাযোগ টাওয়ার। স্যাটালাইট চিত্র অনুযায়ী, ওই টাওয়ারটি বিয়ের অনুষ্ঠানের বাড়িটি থেকে প্রায় ১৩৫ মিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন নারী ও শিশু বিয়ের অতিথি ছিলেন এবং অপর এক কিশোর টাওয়ারের কাছে মোটরসাইকেল চালানোর সময় মারা যায়।
এদিকে নিহতদের স্মরণে গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর) কুহেস্তাকে জানাজা ও শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এমন আঘাতের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।





