ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, যুদ্ধ চলাকালে কাতার তাদের কোনো নীতি নির্ধারণ করে দিতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমি কাতারে আঘাত হেনেছি, সেখানে বোমা হামলাও চালিয়েছি এবং তারাও আমার ওপর আক্রমণ করেছে।’
দোহায় ইসরাইলি হামলার এক বছর পূর্তির প্রাক্কালে তিনি এ মন্তব্য করলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় চালানো ওই হামলায় পাঁচজন হামাস সদস্য এবং কাতারের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। কাতার তখন এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও কাপুরুষোচিত বলে আখ্যায়িত করে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকের সময় নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল-থানিকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।
সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারি অর্থ প্রবেশের অনুমোদন প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু জানান, মানবিক উদ্দেশ্যে এবং ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের পরামর্শেই ওই অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। ইসরাইলের কিছু সমালোচক অভিযোগ করেছিলেন, এই অর্থ হামাস সামরিক কাজে ব্যবহার করেছে। তবে কাতার বরাবরই এমন অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নজরদারিতে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কেবল বেসামরিক মানুষের সহায়তায় এই ত্রাণ দেয়া হয়েছিল।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও নির্বাচনি প্রচারের মুখে নেতানিয়াহু প্রায়ই বহির্বিশ্বের সঙ্গে এমন সংঘাতমূলক বক্তব্য দেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।





