মাওর মৃত্যুর মাধ্যমে ১৯৬৬ সালে তার শুরু করা আলোচিত ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’-এর অবসান ঘটেছিল। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি পরবর্তীতে এই সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে একটি গুরুতর ভুল হিসেবে চিহ্নিত করলেও মাও সে-তুংয়ের অর্জনকে ভুলের চেয়ে বড় মনে করে তাকে শ্রদ্ধার আসনে রেখেছে। বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে এখনো মাওর ছয় মিটার উঁচু প্রতিকৃতি শোভা পাচ্ছে এবং তার স্মৃতিসৌধে প্রতিদিন শ্রদ্ধা জানান হাজারো মানুষ।
সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় রাজনৈতিক ডামাডোলে চীনের অর্থনীতি অচল হয়ে পড়েছিল এবং সহিংসতায় বহু মান্যগণ্য ব্যক্তি নিগ্রহের শিকার হন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পরিবারও এর ভুক্তভোগী ছিল। শি জিনপিংয়ের বাবা সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী শি চংশুন নির্যাতিত হয়েছিলেন এবং কৈশোরে শি জিনপিংকেও খামারে ৭ বছর কঠোর পরিশ্রম করতে পাঠানো হয়েছিল।
তবে সেই ব্যক্তিগত তিক্ততার জন্য শি জিনপিং কখনোই মাওকে প্রকাশ্যে দায়ী করেননি। ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি মাও-পরবর্তী সংস্কার যুগের সুবিধা নেয়ার পাশাপাশি মাও আমলের অনুশাসন ও দলের একক নিয়ন্ত্রণকে নতুন করে জোরদার করেছেন। তিনি ক্ষমতার মেয়াদসীমা তুলে দিয়ে মাওর পর চীনের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষমতাধর নেতা হতে যাচ্ছেন এবং মাওর মতোই সংবিধানের সঙ্গে নিজের নাম ও রাজনৈতিক আদর্শ যুক্ত করেছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, শি জিনপিং জাতীয়তাবাদ ও জনতুষ্টিবাদের মাধ্যমে মাওবাদের জাতীয় রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে নতুনভাবে ফিরিয়ে এনেছেন। আমেরিকান ইউনিভার্সিটির গবেষক জোসেফ তোরিগিয়ান মনে করেন, শি জিনপিং কমিউনিস্ট পার্টিকে মাও আমলের সেই স্বর্ণযুগে ফিরিয়ে নিতে চান, যেখানে আদর্শই ছিল সবার ওপরে। তবে মাওর মতো শি জিনপিংয়ের এই একক কর্তৃত্বশীল নীতি তার শাসনের পর চীনকে কোন নতুন দিকে চালিত করে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





