ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে ‘কিলার রোবট’; পদাতিক সেনার বদলে এবার নামছে চালকবিহীন যুদ্ধযান

খারকিভে চালকবিহীন স্থলযান প্রস্তুত করছেন ইউক্রেনীয় সেনারা
বিদেশে এখন
0

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রণাঙ্গনের কাছে একটি গোপন ওয়ার্কশপে শাড়িবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে চার চাকার চালকবিহীন যান ‘হায়েনা’। ২০ কেজি বিস্ফোরকবহনে সক্ষম চালকবিহীন এ যুদ্ধযানগুলো সহজেই রুশ বাহিনীর ব্যুহ ভেদ করে আঘাত হানতে প্রস্তুত। রুশ পদাতিক বাহিনীর লাগাতার আক্রমণ মোকাবিলায় এবং সেনাসদস্যদের জীবন রক্ষায় এবার যুদ্ধকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে স্থলভাগে চালকবিহীন রোবটের ব্যবহার বাড়াচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

ইউক্রেনের থার্ড আর্মি কোরের কমান্ডিং জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আন্দ্রি বিলেতস্কি পদাতিক সেনার বদলে স্থলভাগে চালকবিহীন যানের (ইউজিভি) ব্যবহারকে যুদ্ধের ইতিহাসে নতুন ‘বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দেশটির লক্ষ্য এই বছরের শেষ নাগাদ সামনের সারির যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সেনা কমিয়ে সেখানে রোবটিক যান মোতায়েন করা। বিলেতস্কি বলেন, ‘পাশ্চাত্যের দেশগুলো ড্রোন বিপ্লবের বিষয়টি অনেকটা ঘুমিয়েই পার করে দিয়েছে। এখন যদি তারা এগিয়ে থাকতে চায়, তবে এই নতুন বিপ্লব নিয়ে তাদের ভাবতে হবে।’

চলতি বছর ডনেস্ক অঞ্চলসহ বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে খাদ্য, গোলাবারুদ সরবরাহ এবং আহত সেনাদের স্থানান্তরে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি সফল মিশন চালিয়েছে এই রোবটিক যানগুলো। কমান্ড সেন্টারে বসে ভিডিও গেম খেলার মতো রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে দূর থেকেই মেশিনগান সজ্জিত রোবট চালনা ও হামলা পরিচালনা করছেন ইউক্রেনীয় তরুণ সেনারা।

ইউক্রেনীয় বাহিনীর এনসি১৩ ব্যাটালিয়নের উপ-কমান্ডার ‘বার’ জানান, কেবল রশদ বহনেই নয়, তারা এসব যানের মাধ্যমে রুশ সেনাদের আত্মসমর্পণ করতেও বাধ্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘এসব লোহার তৈরি যানের জন্য খাদ্য, পানি বা আশ্রয়ের প্রয়োজন নেই। যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য আগে সেনাসদস্যদের পাঠানো হতো, এখন সেখানে লোহালক্কড় পাঠালেই চলছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, রণাঙ্গনে শতভাগ কাজের বিকল্প না হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এই প্রযুক্তি কমান্ডারদের উদ্ভাবনী কৌশলী হতে সাহায্য করবে এবং অহেতুক সেনাক্ষয় রোধ করবে। সাবেক সাধারণ পদাতিক সেনারা স্বীকার করছেন, যুদ্ধের শুরুর দিকে যদি এভাবে ড্রোন ও চালকবিহীন স্থলযান ব্যবহার করা সম্ভব হতো, তবে তাদের বহু সহযোদ্ধা এখনো বেঁচে থাকতেন।

এএম