ঘোড়া-রথ-তীরন্দাজিতে জমজমাট ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমস

ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমসের ঘোড়ার দৌড়
এখন মাঠে
বিদেশে এখন
0

জমজমাট হয়ে উঠেছে নোম্যাড গেমসের আসর। তীরন্দাজ থেকে শুরু করে মধ্যযুগীয় নানা খেলায় জিততে মরিয়া প্রতিযোগিরা। ঘোড়া, রথ- কী নেই ময়দানে! শুরুতে মধ্য এশিয়ায় সীমিত থাকলেও, নোম্যাড গেমসের আসর ডালপালা ছড়াতে শুরু করেছে ইউরোপেও। পশ্চিমা অ্যাথলিটদের অংশগ্রহণে সত্যিকার অর্থে হয়ে উঠছে ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমস।

ঘোড়া, রথ- কী নেই ময়দানে! ছুটন্ত ঘোড়ার পিঠ থেকে ধনুক থেকে তীর ছুঁড়ে লক্ষ্যভেদ কিংবা হিংস্র ঈগলকে পোষ মানানোর নৈপুণ্য আর ঘোড়ায় চড়ে শক্তির প্রমাণ দেয়া- এমন রোমাঞ্চকর সব খেলা কিরগিজস্তানে টেনে এনেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিযোগী ও দর্শকদের।

ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমস। মধ্য এশিয়ায় বহুল চর্চিত জাতিগত খেলাধুলার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার এ আসর, বিরতি দিয়ে ২০১৪ থেকেই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মাঝে ২০২২ সালে তুরস্ক আর কাজাখস্তানের পর, এবার যাযাবরদের ঐতিহ্য- উৎসবের আদলে ফিরেছে প্রথম তিনবারের আয়োজক- এশিয়ার পার্বত্য দেশ কিরগিজস্তানে।

৭০ লাখ অধিবাসীর কিরগিজস্তানে এখনও ব্যাপক জনপ্রিয় মধ্যযুগীয় খেলাধুলা। প্রতিবেশী দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে, খেলার মাঠে প্রাচীন যাযাবরদের ঐহিত্য, সংস্কৃতি আর পরম্পরা তুলে ধরার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজর কাড়তে শুরু করে কিরগিজস্তান। এক যুগে বেড়েছে প্রতিযোগিতার বিস্তৃতি, এশিয়ার মধ্যাঞ্চল থেকে ইউরেশিয়ায়। পশ্চিমা অ্যাথলিটদের অংশগ্রহণে সত্যিকার অর্থে হয়ে উঠেছে ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমস।

খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘প্রায় আট বছর আগে এক বন্ধু আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল আমি অশ্বারোহী তীরন্দাজিতে হাত পাকাতে চাই কি না। তখন এই অসাধারণ খেলার প্রেমে পড়ি। গত আট বছর ধরে গ্রেট ব্রিটেন দলের হয়ে প্রতিযোগিতা করে আসছি।’

অন্য এক খেলোয়াড় বলেন, ‘বার্সেলোনা বিমানবন্দরে ১২ বছর ধরে শকুনদের নিয়ে কাজ করেছি। বিমানকে পাখিদের আঘাত থেকে বাঁচানোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমার এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া।’

মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর পাশাপাশি পূর্ব এশিয়ার মঙ্গোলিয়াও যাযাবরদের ইতিহাস সমৃদ্ধ। নোম্যাড গেমসে অংশ নেয়া অ্যাথলিটদের বেশিরভাগই এসব দেশের নাগরিক, যাদের বেড়ে ওঠাই এসব খেলাধুলার মধ্য দিয়ে। তবে যাযাবরবৃত্তির ইতিহাস নেই, এমন অনেক দেশের মানুষও ছুটে আসছেন নোম্যাড গেমসে অংশ নিতে। তীরন্দাজি থেকে শুরু করে মধ্যযুগীয় নানা খেলায় জিততে মরিয়া তারা, এ যেন নানান দেশের জাতিগত ঐতিহ্যবাহী খেলার অলিম্পিক।

আয়োজকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এসব খেলার মাঝেই এক যাযাবর সত্তা আছে। আমরা এই খেলাটিকে অলিম্পিক গেমসের একটি জাতিগত অংশ বলে মনে করি। অনেকটাই অলিম্পিক গেমসের মতো, কিন্তু এখানে খেলাগুলো জড়িয়ে আছে আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে। আমাদের পোশাকও এখানে আমাদের ঐতিহ্য তুলে ধরছে।’

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এবারের নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও ছিল বৈশ্বিক। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনীতে উপস্থিত হন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা।

এসএস