সব দিক দিয়েই এবারের ব্রিকস সম্মেলন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। চলমান জ্বালানি অস্থিরতা আর সংঘাত পরিস্থিতিতে বিশ্বের তাবত নেতাদের যেন মিলনমেলা বসতে যাচ্ছে নয়াদিল্লিতে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, সম্মেলনের জন্যই সম্মেলন, নাকি জট পাকিয়ে যাওয়া সংকটের সমাধানের পথ খুলবে।
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন সফল করতে, ভারতের প্রস্তুতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। চলতি বছর ২৫টিরও বেশি শহরে ৩৫০টিরও বেশি বৈঠক এবং উচ্চ-পর্যায়ের সেশন আয়োজন করেছে নয়াদিল্লি।
প্রতিরোধ সক্ষমতা, উদ্ভাবন, পারষ্পারিক মেলবন্ধন আর টেকসই ভবিষ্যৎ- গাল ভরা প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখেই ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হলো ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। দু’দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দিন আজ, অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জোটের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা জোরদার করা আর পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।
প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিকতায় রাখা হয়েছে অংশীদারিত্বমূলক অধিবেশন আর ভারতীয় উদ্ভাবনের প্রদর্শনী। যদিও জোটের নেতৃত্বদের আলাদা আলাদা সেশনেই নজর থাকবে সবার। উদ্বোধনী পর্বের পর ব্রিকস সদস্যরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর অংশগ্রহণ, ডিজিটাল ইকোনোমি ইত্যাদি শিরোনামে রাখা হয়েছে চার থেকে পাঁচটি সেশন।
আরও পড়ুন:
এরইমধ্যে সম্মেলন শুরুর আগেই ব্রিকস বিজনেস ফোরামের ব্যানারে মোদির সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেন রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের মাসুদ পেজেশকিয়ান। এসময় দ্বিপক্ষীয় নানা ইস্যুর পাশাপাশি জোটের স্বার্থ ও আঞ্চলিক বিষয় মতবিনিময় হয়। বিজনেস ফোরামের মঞ্চ থেকে সামুদ্রিক জলপথের নিরাপত্তা ও নাবিকদের সুরক্ষার বার্তা দেন আয়োজক দেশের প্রধান নরেন্দ্র মোদি।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য তখনই সমৃদ্ধ হবে যখন সমুদ্রপথ সুরক্ষিত থাকবে, সরবরাহ পথ উন্মুক্ত থাকবে এবং নাবিকেরা নিরাপদ থাকবেন। নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও নাবিকদের নিরাপত্তার একনিষ্ঠ সমর্থক ভারত।’
তবে সারা বিশ্বের নজর চীনের শি জিনপিং-এর সঙ্গে মোদির বৈঠকে। ২০২৫ এর আগস্টের পর আবারও মুখোমুখি হচ্ছেন দুই নেতা। আর দীর্ঘ সাত বছর পর শি-এর ভারত সফরে দ্বিপাক্ষিক নানা সংকট সমাধানের প্রত্যাশা করছে নয়াদিল্লি।
এদিকে শি-মোদির বৈঠকের আগেই সুখবর দিয়েছে নয়াদিল্লি ও বেইজিং। চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স ৬ বছরের স্থগিতাদেশের পর আবারও চালু হচ্ছে গুয়াংজু-নয়াদিল্লি ফ্লাইট। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে গুয়াংজু-নয়াদিল্লি রুটে নিয়মিত যাত্রী পরিষেবা পুনরায় চালু করবে বিমান সংস্থাটি। দক্ষিণ এশিয়ায় আটটি রাউন্ড-ট্রিপ রুটে সপ্তাহে সচল হবে ১০০টিরও বেশি ফ্লাইট। কোভিড-১৯ মহামারী এবং গালওয়ান সীমান্ত বিরোধের জেরে স্থগিত ছিল ফ্লাইটটি।
এরইমধ্যে ভারতে নিযুক্ত বেইজিং-এর রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং মন্তব্য করেছেন, দুই দেশের মতপার্থক্য আর বিরোধ সরিয়ে রেখেই আলোচনায় বসবেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান।





