সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী জাতিসংঘের প্যানেলের মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে বেইজিং-এর এ পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের চলমান বিভেদ স্পষ্ট করেছে।
এ স্বত্তেও ইরান-ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে এসেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বেইজিং সফরের পর চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও'র সঙ্গে কথা বলেছেন। দু'দেশের মধ্যে উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, ইয়েমেনি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চীন ইরানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স। তিনটি ইরানি সূত্রের বরাতে বলা হয়, হুথিবিরোধী লড়াইয়ে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তায় ট্রাম্পের অস্বীকৃতির পর এবার বেইজিংয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছে রিয়াদ। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথগুলোতে লড়াই ঠেকাতে তেহরানকে সাহায্য করতে বলেছে চীন।
এসব কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও সৌদি বাহিনীর সঙ্গে হুথিবিদ্রোহীদের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি এবং ইয়ানবুতে আরামকোর তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। তবে, সৌদি কর্তৃপক্ষ এ হামলাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বলছে, চলমান সংঘাতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এক লাখেরও বেশি ইয়েমেনি। যুদ্ধ থেকে বাঁচতে লোহিত সাগরে নৌকায় আশ্রয় নিয়েছে অনেকেই। বাব আল-মানদেব পার হয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন অসংখ্য।
বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। সাহায্য পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্র হয়ে উঠছে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ে সহকর্মীরা তাইজ, আল-হোদাইদাহ, মারিব এবং লাহজে ১৯টি ঘটনায় ৫৫ জন বেসামরিক নাগরিকের হতাহতের ঘটনা যাচাই করেছেন। ১০ শিশুসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। সার্বিকভাবে, হতাহতের ৮৪ শতাংশই নারী ও শিশু।
এমন প্রেক্ষাপটে অ্যাক্সিওসকে ইরানে নতুন করে বড় হামলার বিবেচনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের বিষয়ে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে পৌঁছেছেন। যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।
তবে যুদ্ধের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানান। এছাড়াও, ইরানি প্রতিনিধিদল আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পারবে বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এরমধ্যেই, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযানের অংশ হিসেবে একটি ইরানি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট।
আরেকদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সে চালানো দুই হামলায় প্রায় দুইশ বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ৩১ প্রদেশ জুড়েই মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার হামলা চালিয়ে নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড চালায়। যদিও, এর আগে এসব হামলার কথা অস্বীকার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে কী ঘটেছিল সেটিও তারা তদন্ত করছে বলেও দাবি করা হয়।





