সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে লড়াই, ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত ২ লাখ ৩০ হাজার ছাড়ানোর আশঙ্কা

বাব আল মান্দেব প্রণালিতে জেলেদের নৌকা
বিদেশে এখন
0

ইয়েমেনে সৌদি আরবের ধারাবাহিক বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষ ও কারাবন্দী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে হুথিরা। একই সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ায় হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর) হুথিরা দাবি করেছে, উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের একটি কারাগারে সৌদি হামলায় নয় বন্দী নিহত হয়েছেন। এছাড়া লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখায় সৌদি হামলায় দুই শিশুসহ ছয় বেসামরিক ব্যক্তি এবং আল-জাওফ প্রদেশে আরও দুই বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তারা।

হুথিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তাদের গণমাধ্যম জানিয়েছে, আল-বাতিন এলাকায় সৌদি হামলায় এক মা ও তার সন্তান নিহত হয়েছেন। ওই নারীর স্বামী ও আরও দুই সন্তান আহত হয়েছেন। তবে এসব হতাহতের দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত এলাকা হুথি দের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সাম্প্রতিক সংঘাতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

জাতিসংঘ মঙ্গলবার জানিয়েছে, বর্তমানে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। আগামী কয়েক মাসে এই সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ছাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

সংঘাতে ১৫৪ জন নিহতের দাবি

হুথি ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর মধ্যে গত দুই দিনের লড়াইয়ে ১৫৪ জন নিহত হয়েছেন বলে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে এএফপি।

হুথিদের সামরিক সূত্র দাবি করেছে, তাইজ, আল-জাওফ, মারিব ও সাদা প্রদেশে সৌদি বিমান হামলা, সংঘর্ষ ও গোলাবর্ষণে ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইয়েমেন সরকারের সূত্র তাদের পক্ষে ৩৬ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।

সহিংসতা বাড়ায় অনেক পরিবার দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরে আরওয়া নামের চার সন্তানের এক মা এএফপিকে বলেন, তারা তীব্র গরম, ধুলা ও দুর্ভোগে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

সৌদি সীমান্তে সতর্কতা

হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পর সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা মঙ্গলবার ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। সপ্তাহান্তে রিয়াদে হুতিদের হামলার পর এটিই প্রথম এ ধরনের সতর্কতা।

সতর্কবার্তায় মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকতে এবং খোলা জায়গা এড়িয়ে চলতে বলা হয়। কিছু সময় পর সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করছে এবং হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা হুথিরাও সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। কয়েক বছর পর প্রথমবারের মতো রিয়াদকে লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে তারা।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সহায়তা

কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের নিয়ে গঠিত জি৭ হুতিদের সব সামরিক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। বেসামরিক জাহাজে হুমকি ও হামলা বন্ধ করে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসারও আহ্বান জানিয়েছে তারা।

ইরানকে হুতিদের অস্ত্র সরবরাহ ও সমর্থন বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছে জি৭। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লুক পোলার্ড জানিয়েছেন, সৌদি আরবকে কিছু সামরিক সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে ব্রিটেন। ফ্রান্সও সৌদির জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন এক কূটনৈতিক সূত্র। তবে এই সহায়তার অর্থ হুথি দের সঙ্গে যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়া নয় বলে জানিয়েছেন ওই সূত্র।

লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুতে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনাতেও হুথিরা হামলা চালিয়েছে। রিয়াদের দাবি, ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি পথ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনও বন্ধ হয়ে গেছে।

হুথি দের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তার জন্য ইয়েমেন সরকার ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সহায়তা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

এএফপির প্রতিবেদনে অবলম্বনে

এএম