কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখার আহ্বান; স্থায়ী শান্তির উদ্যোগ নিতে চায় তুরস্ক

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান
বিদেশে এখন
0

কৃষ্ণসাগরে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে ‘অনভিপ্রেত ও ব্যাখ্যাতীত’ বলে অভিহিত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ কথা জানান তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার তুর্কি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ও সাধারণ নৌযানে হামলা বন্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন যে কৃষ্ণসাগরে মুক্তভাবে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং দুই পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক। অতীতে একাধিকবার তুর্কি মালিকানাধীন জাহাজ ও নাগরিকরা কৃষ্ণসাগরে হামলার শিকার হওয়ায় আঙ্কারা শুরু থেকেই এই বাণিজ্যিক নৌপথে হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। যুদ্ধ চলাকালে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে শস্য রপ্তানি সচল করার ওপর জোর দিয়েছেন এরদোয়ান।

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত বলে জানান এরদোয়ান। এর জবাবে ‘ক্রিমিয়ান প্ল্যাটফর্ম’ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, তুরস্ক, মিসর বা ভারতের মতো দেশগুলোর উত্থাপিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে কৃষ্ণসাগরে একটি সামুদ্রিক যুদ্ধবিরতি (মেরিটাইম ট্রুস) মেনে নিতে কিয়েভ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় বিখ্যাত ‘ব্ল্যাক সি গ্রেন ইনিশিয়েটিভ’ বা কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার ফলে ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল। তবে নিজস্ব খাদ্য ও সার রপ্তানিতে বাধার অভিযোগ তুলে পরের বছর ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় রাশিয়া। বৈশ্বিক গম সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আবারও সেই ধরনের কোনো কাঠামো ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে আঙ্কারা।

এএম