আগামী ১ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী বাসিন্দার আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর গৃহস্থালি বার্ষিক আয় জাপানের গড় আয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। এর পাশাপাশি জাপানি ভাষায় সুনির্দিষ্ট দক্ষতা এবং ৩০ বছরের মেয়াদি পেনশন তহবিলের প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি জানায়, প্রবাসিরা যেন সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর বোঝা না হয়ে স্বাধীন ও স্থিতিশীল জীবনযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
জাপানে বিদেশি জনসংখ্যা কম হলেও গত কয়েক বছরে দ্রুত তা বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ৪১ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। অথচ একই সময়ে জাপানজুড়ে জন্মহারের আশঙ্কাজনক পতনে দেশটিতে শ্রমশক্তির চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। উরাইয়াসুর মেইকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রিনা হাগিওয়ারা জানান, একদিকে জাপান শ্রম ঘাটতি মেটাতে বিদেশি কর্মী চায়, অন্যদিকে তাদের দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের শর্ত কঠিন করে তুলছে, যা চরম বৈপরীত্য।
জাপানি রাজনীতির সাম্প্রতিক ডানপন্থি ভাবধারার প্রভাবেই এই নীতিগত পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কনজারভেটিভ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ও দেশটির প্রিমিয়ার সানায়ে তাকাইচি সম্প্রতি সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষদের জাপানে ঢোকার সুযোগ দেওয়ার নীতি নিয়ে পুনর্বিবেচনার কথা বলেছিলেন। এ ছাড়া উগ্র ডানপন্থি ‘সানসেইতো’ পার্টির জনপ্রিয়তার ফলে দেশজুড়ে বিদেশিবিদ্বেষ ও কড়াকড়ির পরিবেশ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপ অনুযায়ী, ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ জাপানি নাগরিক দেশে অতিরিক্ত বিদেশি প্রবেশ করানোর বিরোধিতা করেছেন, যা দুই বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি। অনলাইনে ও স্থানীয় সমাজে এই বিরূপ ভাবধারার প্রভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অনেক বিদেশি নাগরিক এখন স্থায়ী নাগরিকত্বের আবেদন করার পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো দেশে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।





