ভারতের নির্বাচন কমিশন বিতর্ক: সিইসির বরখাস্ত ও মোদির পদত্যাগ চাইলো কংগ্রেস

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কথা বলছেন
বিদেশে এখন
0

ভারতের ভোটার তালিকা বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) বৈঠকে তিনি এই দাবি জানান। হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম মুছে ফেলার এই প্রক্রিয়াকে ২০১৬ সালের ‘নোটবাতিল’ বা নোটবন্দির সঙ্গে তুলনা করে খাড়গে একে ‘ভোটের অধিকার হরণ’ বলে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিইসির ওপর অনুচিত চাপ সৃষ্টি করছেন, তাই নৈতিক কারণে মোদির পদত্যাগ করা উচিত।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভোটার তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করা, বাদ দেয়া ও পুনর্বহালসহ নিবন্ধনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আদেশের আনুষ্ঠানিক বিরোধিতা করেছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়ায় বিরোধী দল কংগ্রেস।

সিডব্লিউসি বৈঠকে খাড়গে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে ৫ দফা দাবি জানান। তিনি বলেন, যেসব ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানিয়ে আপিলের সুযোগ দিতে হবে। এ ছাড়া সব রাজনৈতিক দলকে সহজ বিন্যাসে নির্ভুল ভোটার তালিকার ডেটা সময়মতো সরবরাহ করতে হবে, যাতে তথ্যের কারচুপির কোনো সুযোগ না থাকে।

তরুণদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে খাড়গে অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার তরুণদের প্রশ্ন ও ক্ষমতাচ্যুতির ভয়ে তাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে ‘ফর্ম ৬’-এর নিয়মে বেআইনি পরিবর্তন এনেছে। এ প্রসঙ্গে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ভোট চুরি’র বিষয়টি জনসমক্ষে এনে রাহুল নির্বাচন কমিশনের মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার লড়াই করছেন।

এএম