বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারে বিমান হামলা, নিহত ৫০

বিমান হামলা
বিদেশে এখন
0

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৫০ জনে। আহত আরও ৫৮ জনের বেশিরভাগের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। এমন পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া সরকারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

গত ডিসেম্বরেই রাখাইনের একটি হাসপাতালে বোমা ফেলে অন্তত ৩০ জনকে হত্যা করে জান্তাবাহিনী। ১০ মাসের মধ্যে সোমবার দ্বিতীয়বার প্রাণঘাতী বিমান হামলার সাক্ষী হলো রাজ্যের বাসিন্দারা।

বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন কিয়কত শহরে সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা অর্ধশত ছুঁয়েছে। আহত অর্ধশতাধিক মানুষের বেশিরভাগের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির অভিযোগ, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবনসহ জনবসতিপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নির্বিচার হামলা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। তবে এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি নেইপিদো।

মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তির আওতায় যখন পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া যখন শুরু করলো মালয়েশিয়া, তখনই আবারও এমন রক্তক্ষয়ী হামলা রাখাইনে। প্রথম ধাপে মঙ্গলবার মিয়ানমারের নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজে চড়ে মালয়েশিয়া ছাড়ে শিশুসহ দেড় হাজার রোহিঙ্গা। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থগিতে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্তোফানে দুজারিক বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত সহিংসতার ফলে এটাই স্পষ্ট যে, রোহিঙ্গা ও অন্যান্য বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের কোনো অনুকূল পরিবেশ সেখানে এখনও নেই। সাম্প্রতিক বিমান হামলায় সেই বাস্তবতা আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।’

২০২১ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের বড় একটি অংশ গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দরিদ্র দেশটিতে চলমান সংঘাতে প্রাণহানি এক লাখ ছাড়িয়েছে আগেই, বাস্তুচ্যুত ৩৫ লাখের বেশি মানুষ।

জেআর