মারাত্মক আহত হওয়া সত্ত্বেও স্মিথ মছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন এবং ক্রুদের সতর্ক করেন। ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে ২৭ শিশুসহ ১৭৪ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু ছিলেন। জরুরি সংকেত পাঠানোর পর বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করানো হয়। বর্তমানে স্মিথ মছার সেখানে চিকিৎসাধীন।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের তথ্য অনুযায়ী, চার ইসরাইলি নাগরিক ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে পরাস্ত করতে সহায়তা করেন। এরপর দুজন অফ-রোস্টার পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সৌদি আরবের একটি ছোট বিমানবন্দরে অবতরণ করান। এই চারজনের মধ্যে ছিলেন ইয়ানিভ হায়ুন। তিনি হামলাকারী কো-পাইলটকে শ্বাসরোধ করে ধরেন এবং পরে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করেন।
পেশায় প্লাম্বার ইয়ানিভ হায়ুন তেল আবিব বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করেন। সে সময় তার শার্টে রক্তের দাগ ছিল, তবে তিনি নিজে আহত হননি। হায়ুন জানান, যাত্রীরা যখন ককপিটে পৌঁছান, তখন দরজা খোলা ছিল। তার ধারণা, ভারতীয় পাইলট অজ্ঞান হওয়ার আগেই দরজাটি খুলে দিয়েছিলেন।
হায়ুন বলেন, ‘আমি যখন ভেতরে যাই, দেখি হামলাকারী সিটের মাঝখানে নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ওপর পড়ে আছে। সিটে কোনো পাইলট ছিলেন না।’ তিনি আরও জানান, হামলাকারী বিমানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ধ্বংস করার চেষ্টা করছিল। ‘মে ডে’ টেলিভিশন শো দেখে শেখা জ্ঞান কাজে লাগিয়ে হায়ুন বিমানের ভারসাম্য ফেরান।
আসাদ রাজুয়ান এবং জভিকা মানেস নামের আরও দুজন ইসরাইলি ক্রুদের সঙ্গে মিলে হামলাকারীকে পরাস্ত ও আটকে রাখতে সহায়তা করেন। থাইল্যান্ড থেকে ফেরা আসাদ রাজুয়ান ঘটনাটিকে ‘হরর মুভি’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘আমরা দেখলাম ককপিট রক্তে ভরে গেছে। আমরা হামলাকারীকে ৫০ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখতে সক্ষম হই।’
ব্যাংক লিউমির আন্ডাররাইটিং কোম্পানির সিইও জভিকা মানেস জানান, মাল্টিমিডিয়া হেডফোনের কেবল দিয়ে হামলাকারীকে বেঁধে ফেলা হয়। তিনি বলেন, ‘প্রচুর রক্ত ছিল। বিমানটি দ্রুত নিচে নামছিল। পাইলট বিমানটিকে স্থিতিশীল করার আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ ছিল।’
শতা মুসায়েভ নামের একজন ডেন্টিস্টও শুরুতে ককপিটে ছুটে যান। হামলাকারীকে আটকে ফেলার পর, তিনি গুরুতর আহত ক্যাপ্টেনের দিকে মনোযোগ দেন। ফ্লাইটে তিনি একাই চিকিৎসক ছিলেন। তিনি জানান, স্মিথ মছারের মাথা ও হাতে গভীর ক্ষত ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তিনি রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সক্ষম হন এবং অবতরণের আগ পর্যন্ত পাইলটের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল।





