গত বৃহস্পতিবার আসমারায় অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস বন্ধ এবং ১০ জন ইরিট্রিয়ান কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয় ইথিওপিয়া। এর জবাবে ইরিট্রিয়াও তাৎক্ষণিকভাবে ইথিওপিয়ার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত জানায়। ইরিট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ইথিওপিয়া তাদের উপকূলীয় অঞ্চলে নজর দিচ্ছে এবং সরকারের বিরোধিতাকারীদের অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে ইথিওপিয়াও পাল্টা অভিযোগ এনে বলেছে, ইরিট্রিয়া তাদের দেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে।
গত সপ্তাহ থেকে ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রাই, আমহারা ও আফার অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে টাইগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ)-নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী জোট ইথিওপিয়ান পিপলস ফোর্সেস অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভালের ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। লড়াইয়ের তীব্রতার মধ্যেই রাজধানী আদ্দিস আবাবায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
সংঘাতের বিস্তার শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইথিওপিয়া অভিযোগ করেছে, ইরিট্রিয়ার পাশাপাশি মিশর ও সুদানও টাইগ্রাই বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে। রেনেসাঁ বাঁধ (জিইআরডি) নিয়ে মিশরের সঙ্গে ইথিওপিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সম্প্রতি উভয় দেশই একে অপরের কূটনীতিক বহিষ্কার করেছে। অন্যদিকে সুদানের সামরিক সরকারও ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে সুদানি বিদ্রোহীদের মদদ দেয়ার অভিযোগ এনেছে।
এসওএএস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক লরা হ্যামন্ড বলেন, ‘সংঘাত অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে বিদ্রোহীদের প্রতি ইরিট্রিয়ার সমর্থনের মাধ্যমে।’ চ্যাথাম হাউসের আফ্রিকা কর্মসূচির গবেষক আহমেদ সলিমান জানান, ইথিওপিয়া ও সুদানের বিরোধ পারস্পরিক অভিযোগের কারণে আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। আফ্রিকা অঞ্চলের বিশ্লেষক মার্টিন প্লট সতর্ক করে বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সামান্য স্ফুলিঙ্গেই দুই দেশ ও প্রতিবেশী সুদান বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।’
বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রবিচ্ছিন্ন ইথিওপিয়ার জন্য লোহিত সাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের অনড় অবস্থান এ উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।





