চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক নাটকীয় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপর দেশটির শাসনভার দেয়া হয় মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগুয়েজের হাতে। ধারণা করা হয়েছিল, মাদুরোর পতনের পর প্রধান বিরোধী নেত্রী হিসেবে মাচাদোই দেশের হাল ধরবেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাচাদোকে দেশে ফিরতে বাধা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও তারা স্বীকার করেছেন যে নিরাপত্তার কারণে বেশ কয়েকবার তাকে দেশে না ফেরার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এমনকি ট্রাম্প নিজেও মাচাদোর নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, দেশের ভেতরে তার তেমন কোনো সমর্থন বা শ্রদ্ধা নেই।
মাচাদোর রাজনৈতিক দল ভেন্তে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, পানামা থেকে অন্তত সাতবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেছেন মাচাদো। এর মধ্যে পানামা থেকে গোপন সামুদ্রিক অভিযান, চার্টার্ড বিমান এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেরার চেষ্টাও ছিল। কিন্তু প্রতিবারই তিনি ব্যর্থ হন। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কুরাসাও হয়ে একটি বেসরকারি বিমানে ভেনেজুয়েলা ফেরার চেষ্টা করলে ‘ওপর মহলের নির্দেশে’ সেই বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে কুরাসাওয়ের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন
২০২৪ সালের জুলাইয়ের নির্বাচনে মাচাদোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেয়নি মাদুরো সরকার। তবে তার মনোনীত প্রার্থী এদমুনদো গঞ্জালেস দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন বলে দাবি করা হয়। মাদুরো জোর করে ক্ষমতা ধরে রেখে বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু করলে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন মাচাদো। এর আগে আত্মগোপনে থাকা অবস্থাতেই তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
মাচাদোর দল ভেন্তে ভেনেজুয়েলার সাংগঠনিক সম্পাদক হেনরি আলভিয়ারেজ অবশ্য আশা প্রকাশ করেছেন, আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই মাচাদো দেশে ফিরবেন। সম্প্রতি তার প্রেস প্রধান ক্লাউডিয়া মাসেরো নির্বাসন থেকে কারাকাস বিমানবন্দরে পৌঁছালে শত শত সমর্থক তাকে স্বাগত জানায়। মাসেরো বলেন, ‘মারিয়া কোরিনা প্রতিদিন দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। পথটা কঠিন হলেও এই সংকটের অবসান হবেই।’
—দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন অবলম্বনে





