জার্মানির নুরেমবার্গে একটি আন্তর্জাতিক আইনি সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে নাভি পিল্লাই এ মন্তব্য করেন। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন এবং এর জন্য একাধিকবার প্রকাশ্য দাবিও তুলেছেন। গত বুধবারও সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এমন সব কাজ করেছি যা আগে কেউ কখনো করেনি। আমি কোনো বড়াই করছি না, বাস্তব তথ্য বলছি। কোনো প্রেসিডেন্ট হয়তো কখনো কোনো যুদ্ধ মেটাতে পারেননি, কিন্তু আমি আটটি যুদ্ধের সমাধান করেছি।’
যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাইকে এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়েছে। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়রগেন ওয়াতনে ফ্রিদনেস বলেন, এমন এক সময়ে এই পুরস্কার দেয়া হল যখন আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা চরম চাপের মধ্যে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন দিক থেকে বাধার মুখে পড়ছে।
গত বছর ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল হোয়াইট হাউস। পরে মাচাদো প্রতীকীভাবে তার নোবেল পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের শাসনই শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি—এই বার্তা বিশ্বকে মনে করিয়ে দিতেই এ বছর নাভি পিল্লাইকে বেছে নেয়া হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নেলসন ম্যান্ডেলার পক্ষে আইনি লড়াই ছাড়াও রুয়ান্ডাবিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ছিলেন নাভি পিল্লাই। এছাড়া গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়া জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।





