ট্রাম্পের নির্দেশ উপেক্ষা করে রাশিয়ায় ড্রোন হামলা ইউক্রেনের

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে বিমান হামলার পর জ্বলতে থাকা তেল টার্মিনাল দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা
বিদেশে এখন
0

রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে দেশটিতে চলতি বছরের অন্যতম বৃহত্তম ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। শনিবার দিবাগত রাতে চালানো এ হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি কৌশলগত তেল টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার দিবাগত রাত থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের অন্তত ১ হাজার ১৫টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সেন্ট পিটার্সবার্গ তেল টার্মিনাল, যার বার্ষিক তেল খালাসের সক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টন।

ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্ট জানিয়েছে, ড্রোন আঘাত হানার পর টার্মিনাল চত্বরে তীব্র অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এছাড়া ওজোন নামের একটি রুশ প্রতিষ্ঠানের লজিস্টিকস সেন্টারেও ড্রোন আঘাত হানে। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, এসব হামলায় একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই হামলার পর ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির বৈশ্বিক বাজার শান্ত রাখতে উভয় পক্ষ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করলেও কিয়েভ বা মস্কো কেউই তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

এদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ রোববার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ওডেসা অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়।

আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়ার পর থেকে রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনের জ্বালানি এবং তেল ও গ্যাস খাতে ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা উচিত যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা সমঝোতার জবাবে রাশিয়া কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উল্টো তারা অর্থ উপার্জনের প্রতিটি সুযোগকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার রসদ হিসেবে ব্যবহার করছে।’

সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেল আমদানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকেও রাশিয়াকে বিশেষ ছাড় দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে স্টারলিংকের গতি সীমিত করার অভিযোগ তুলেছেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, স্টারলিংকের গতি ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারে নামিয়ে আনায় আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলো দিয়ে রাশিয়ার শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করা যাচ্ছে না।

জেলেনস্কির অভিযোগ, এটি পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনকে আত্মরক্ষা থেকে বিরত রাখার পদক্ষেপ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের সেবা সীমিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে মার্কিন স্যাটেলাইট থেকে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।

এএম