ইরান যুদ্ধে প্রশ্নের মুখে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব

ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বরাজনীতিতে এক নতুন মেরু সৃষ্টি করেছে। বিশ্বব্যবস্থায় দেশটির একচ্ছত্র আধিপত্যকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের সীমাবদ্ধতাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছে। বিশ্লেষকদের মত, এ যুদ্ধ প্রমাণ করেছে, আধুনিক যুগে কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ কেবল একটি দমনমূলক স্ট্রাইকের চেয়েও সুদূরপ্রসারী কিছু হওয়ার কথা ছিলো। শুরুতে এটি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাঙার একটি সীমিত অপারেশন হিসেবে তুলে ধরা হলেও এর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ছিলো ব্যাপক।

এ হামলা চালিয়ে ওয়াশিংটন অন্যান্য বৈশ্বিক শক্তিগুলোকে দেখাতে চেয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র এখনও নিজ ভূখণ্ড থেকে বহু দূরে সামরিক শক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর প্রভাব ফেলতে সক্ষম। অবশ্য পশ্চিমা গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা যেটিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে।

মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমস এ পরিস্থিতিকে যুদ্ধের ‘অনিচ্ছাকৃত পরিণতির’ একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছে। পত্রিকাটি লিখেছে, এ সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনকে যুক্তরাজ্যসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি থেকেও সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য করেছে। যুক্তরাজ্য থেকে বি-১ বোমারু বিমান আকস্মিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

প্রকাশিত বিশ্লেষণ ও মতামত অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরাজয়। যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী বিশৃঙ্খলা ডেকে এনেছে। এ সংঘাতে মার্কিন সামরিক সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে। বিপরীতে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

আরও পড়ুন:

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ব্যর্থতা কেবল মার্কিন সেনা প্রত্যাহারেই সীমাবদ্ধ নয়। মূল বিষয়টি হলো মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে মার্কিন শক্তির ভাবমূর্তি রক্ষা। সামরিক শক্তি কেবল কোনো অঞ্চলে মোতায়েন করা বিমান-জাহাজ় ও ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যা অথবা সেনাসংখ্যার ওপর নির্ভরশীল নয়। এ যুদ্ধে ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তির ব্যয়বহুল ব্যবহার প্রতিপক্ষকে হামলা বা পালটা হামলা প্রতিরোধের সমীকরণকে জটিল করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের মিলিশিয়ার মতো ইরানের প্রক্সি নেটওয়ার্ক-কে চিরতরে শেষ করতে চেয়েছিল মার্কিন প্রশাসন ও ইসরাইল। তবে বাস্তবে তা না হয়ে, যুদ্ধ আঞ্চলিক গণ্ডি পেরিয়ে বহুমাত্রিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের আরও মত, শেষ পর্যন্ত, যুদ্ধ সবসময়ই পরিকল্পনাকারীদের উদ্দেশ্য বুঝে চলে না। একটি দেশ শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে কোনো সংঘাত শুরু করলেও যুদ্ধের ফলাফল সবসময় তাকে শক্তিশালী করে না। কখনও কখনও সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ করে।

এখন মূল প্রশ্নটি এটি নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের এখনও বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী বা ক্ষমতাধর সামরিক শক্তি কি না? তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, সামরিক বা কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে দেশটির সক্ষমতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ধারণা যুদ্ধের আগের মতোই আছে কি না?

এফএস