যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে মুসলমানদের নিশানা ও অবমূল্যায়ন করার প্রবণতায় ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে সংঘাতের বদলে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বোঝাপড়ার মাধ্যম হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্লোরিডার কয়োনোনিয়া ওরশিপ সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিল ক্লিনটন বলেন, ‘কেবল মুসলমান হওয়ার কারণে লোকজনকে খাটো করা হচ্ছে, এতে আমি ক্লান্ত ও বিরক্ত।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিভাজনের কঠোর সমালোচনা করেন। রাজনৈতিক বা সামাজিক ক্ষেত্রে ধর্মকে বৈষম্য ও শত্রুতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার তাগিদ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ক্লিনটন জানান, তার মেয়ে চেলসি ক্লিনটন কিশোর বয়সে পবিত্র কোরআন পড়েছিলেন এবং পরে তাকেও এটি পড়তে উৎসাহিত করেন। এ সময় তিনি কোরআনের একটি আয়াতের বার্তা তুলে ধরেন, যেখানে মানবজাতিকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে সৃষ্টির উদ্দেশ্য হিসেবে একে অপরকে জানা ও বোঝার কথা বলা হয়েছে। ক্লিনটন বলেন, মানুষ হিসেবে কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয় এবং প্রতিটি ধর্মেই অন্যায়কারী কিছু মানুষ থাকে।
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের মধ্যে বিল ক্লিনটন এ বক্তব্য দিলেন। সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে তিনি হবেন মার্কিন সিনেটের প্রথম মুসলিম সদস্য। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে তার এই নির্বাচনি লড়াই অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনি প্রচারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এল-সায়েদকে আক্রমণ করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘মোহাম্মদ’ এবং ‘জিহাদি’ বলে আখ্যা দেন। প্রতিপক্ষ শিবির থেকে তাকে চরমপন্থার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হলেও এল-সায়েদ তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং মিসরভিত্তিক রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এল-সায়েদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
—আল জাজিরা, দ্য সিয়াসাত ডেইলি ও দ্য অবজারভার পোস্টের প্রতিবেদন অবলম্বনে





