সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথিদের আলাদা ৩টি হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ২ জন। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনটি আবাসিক ভবন ও সাতটি যানবাহন। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিমান ও নৌ ঘাঁটিতে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সফল হামলার দাবি করেছে হুথিরা। যদিও ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২টি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
পবিত্র মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদির অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথির সামরিক গোষ্ঠী। কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে অনিরাপদ ঘোষণা করে কর্মী ও যাত্রীদের নিরাপদে থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছেন হুথির সামরিক মুখপাত্র।
জবাবে রাজধানী সানাসহ হুথিদের নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চল, ৫টি টানেল ও ৪টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ইয়েমেনের ভেতরে থাকা হুথিদের দুর্গ গুড়িয়ে দিতে, গেল একদিনে ৫৬টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তারা।
এদিকে, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সোমবার বৈঠকে বসছে ইরান। আলোচনায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ, পাকিস্তান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন। আঞ্চলিক শাসন ব্যবস্থায় আমেরিকা ও ইসরাইলের মতো বিদেশি হস্তক্ষেপ ইরান মেনে নেবে বলে সাফ জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
তবে হরমুজ প্রণালির ব্যাপারে এখনো অনড় অবস্থানে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, এই জলপথের রুটগুলো আগের অবস্থায় ফিরবে না। নতুন ব্যবস্থাপনায় ইরানের তত্ত্বাবধানেই চলবে সবকিছু।
এদিকে, রোববারের মধ্যে ইরানে কঠোর হামলার হুমকি দিলেও পরে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সপ্তাহের শুরুর দিকে, ইরানে হামলার জন্য ট্রাম্পের অনুমতির অপেক্ষায় ছিল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
ইসরাইলের নির্বাচন ঘিরে হামলার শঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরান ও তাদের আঞ্চলিক গোষ্ঠী নির্বাচনে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করতে ইসরাইলি সেনারা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অধিকৃত পশ্চিম তীর অবরুদ্ধ করে হেবরন ও জেনিন শহরে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। এরইমধ্যে হেবরন থেকে ৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়িঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। শহরের প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে রেখেছে দখলদার বাহিনী।





