নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের মধ্যে তীব্র ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। তবে ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে কোনো পক্ষই একক বা জোটগতভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারবে না বলে আভাস মিলেছে। ফলে নির্বাচনের পরও দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক দর-কষাকষি ও টানাপোড়েন শুরু হতে পারে।
আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টি মূলত পরিবর্তনের ডাক দেয়া বিরোধী জোটের মূল ভরসা হয়ে উঠেছে। এই জোটে নিরাপত্তা ইস্যুতে কট্টর অবস্থানে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং আভিগদোর লিবারম্যানের মতো ডানপন্থি নেতারা যেমন আছেন, তেমনি রয়েছেন বাম ঘরানার সাবেক জেনারেল ইয়াইর গোলানও। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করাই তাদের একমাত্র সাধারণ লক্ষ্য। অন্যদিকে ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নেতানিয়াহুর মসনদে টিকে থাকা নির্ভর করছে কট্টর ডানপন্থি ও উগ্র অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে তার জোটের ওপর, যা ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টরপন্থি সরকার হিসেবে চিহ্নিত। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব বংশোদ্ভূত ফিলিস্তিনি নাগরিক এবং তাদের দুটি রাজনৈতিক দল থাকলেও প্রধান ইহুদি দলগুলো তাদের সঙ্গে জোট করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
প্রচারণায় প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৭ অক্টোবরের গোয়েন্দা ও সামরিক ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহুর দায় এবং বিচার বিভাগীয় বিতর্কিত সংস্কারের কারণে গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ তুলে তার তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধীরা। তবে নেতানিয়াহু নিজেকে নিরাপত্তার একমাত্র কাণ্ডারি হিসেবে দাবি করে ওয়াশিংটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সামনে এনেছেন। এমনকি ভোটের আগে তেলআবিবে পারমাণবিক হামলার কাল্পনিক এআই ছবি প্রচার করে তিনি ভোটারদের সতর্ক করার চেষ্টা করেছেন, যাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন আইজেনকট। এছাড়া কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের আদালতের নির্দেশ কার্যকর না করার বিতর্কও নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলছে।
গাজা ইস্যু ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে অবশ্য প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মূল অবস্থানে খুব একটা তফাত নেই। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় নিয়মিত বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী, যাতে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৭৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আইজেনকটও আগামী ১৮ মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনা কিংবা সামরিক শক্তিতে হামাসকে পুরোপুরি নির্মূলের অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতিগুলোর প্রতি সমর্থন জানালেও কট্টর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা কঠোর হওয়ার কথা বলেছেন। তবে সেখানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে ইসরাইলের কঠোর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে সীমিত স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।
বিদেশে থাকা প্রায় ৭০ হাজার নাগরিক ভোট দিতে ইসরাইলে ফিরেছেন। এছাড়া লাখো নতুন ভোটার এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ভোট বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় সময় রাত দশটায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তবে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হলে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মতো ইসরাইল আবারও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অচলাবস্থায় পড়তে পারে এবং নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন।





