চলতি মাস থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কুল অব পাবলিক হেলথে কাজ শুরু করছেন তিনি। তবে এটি কোনো পূর্ণকালীন শিক্ষকতার পদ নয়। সেখানে তিনি মূলত অতিথি বক্তা হিসেবে পাঠদান, মাস্টারক্লাস পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, মানবিক সমতা ও নাগরিক আস্থার মতো বিষয়গুলো থাকবে তার শিক্ষাদানের মূল কেন্দ্রে।
নতুন এই দায়িত্ব নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে আরডার্ন জানান, প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর থেকেই কার্যকর ও মানবিক নেতৃত্বের বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীরভাবে কাজ করছেন। বিশ্বজুড়ে নানামুখী সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কীভাবে ইতিবাচক নেতৃত্ব তৈরি ও উৎসাহিত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে তিনি বিশেষভাবে আগ্রহী।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মার্ক স্কট আরডার্নের সাহসিকতা ও নেতৃত্বের মানবিক গুণাবলির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জাতীয় সংকট দৃঢ়তার সঙ্গে সামলানো এমন একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হবে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে স্বামী ক্লার্ক গেফোর্ড ও কন্যাসন্তানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান আরডার্ন এবং সিডনির উত্তরাঞ্চলীয় সৈকত এলাকায় বাড়ি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন তিনি।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সন্তান জন্ম দিয়েও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কেড়েছিলেন এই নেত্রী। ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, হোয়াকারি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং করোনা মহামারি সফলভাবে সামলে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি রাজনীতি থেকে অবসরে যান।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক লিডারশিপ ও প্রযুক্তি শাসন বিষয়ে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন আরডার্ন। এছাড়া ২০২৫ সালে আ ডিফারেন্ট কাইন্ড অব পাওয়ার শিরোনামে তার আত্মজীবনীমূলক বই প্রকাশিত হয়।





