কঙ্গোয় ইবোলা আক্রান্ত ১০ হাজার ছাড়ালো; ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় পুরো আফ্রিকা

ইবোলা মোকাবিলায় টিকা নিতে জড়ো হয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীরা
বিদেশে এখন
0

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় বিরল ধরনের ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মারা গেছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। সংক্রমণ সীমান্ত পেরিয়ে অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করায় পুরো আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের মহামারির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার কঙ্গোর জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬০ জনে এবং ভাইরাসের ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ হাজার ৮৮৭ জন। চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে শনাক্ত হওয়া বিরল বুন্দিবুগিও ধরনের এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবটি কঙ্গোর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর ফলে দেশটি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবের ভয়াবহতাকেও ছাড়িয়ে গেল। বিশ্বজুড়ে নথিবদ্ধ হওয়া ইতিহাসের মধ্যেও এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী ঘটনা। এর আগে কেবল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ছড়িয়ে পড়া মহামারিতে সাড়ে ২৮ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

কঙ্গোর সীমানা পেরিয়ে এই মহামারি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। চলতি মাসের শুরুতে কেনিয়ায় প্রথম রোগী শনাক্তের পর দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে রাজধানী নাইরোবিতে আসা এক ব্যক্তি ইবোলায় মারা যাওয়ার পরই মূলত সেখানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

গত সপ্তাহে আফ্রিকার চতুর্থ দেশ হিসেবে নাইজেরিয়াতেও প্রথম ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নাইজেরিয়ায় আক্রান্ত রোগী একজন সুইস কূটনীতিকের স্ত্রী, যিনি কখনোই কঙ্গো সফরে যাননি। তিনি কীভাবে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হলেন তা খতিয়ে দেখছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তবে সুইস সরকারের ধারণা, তিনি সম্ভবত উগান্ডা সফরের সময় আক্রান্ত হয়েছিলেন। সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই নারী ও তার স্বামীকে সুইজারল্যান্ডের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

এর আগে মে ও জুন মাসে উগান্ডায় ২০ জনের শরীরে ভাইরাসটি ধরা পড়েছিল, যাদের বেশির ভাগই কঙ্গো থেকে এসেছিলেন। গত আগস্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করে এবং দেশটির পক্ষ থেকেও বর্তমানে কোনো রোগী না থাকার কথা জানানো হয়েছে। তবে নতুন করে ঝুঁকি এড়াতে কঙ্গো সফর শেষে নিজ দেশে ফেরা উগান্ডার নাগরিকদের জন্য ২১ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এএম