মস্কোয় অনুষ্ঠিত গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের (জিইসিএফ) অষ্টম শীর্ষ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক নানা সংঘাত এবং একতরফা পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে জানা যায়, পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন যে তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং সমুদ্র ও আকাশপথে আরোপ করা কড়াকড়ির মারাত্মক প্রভাব জ্বালানি বাজারের ওপর পড়তে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কারণে জ্বালানির মূল্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, এর নেতিবাচক পরিণতি কেবল এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার বিষয়টি তুলে ধরে ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি এবং পরিবহন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজারের অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে এবং জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জিইসিএফ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি। এর মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময়, বাজার ব্যবস্থাপনা, কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের সক্ষমতা তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, দেশটির বার্ষিক প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার কোটি ঘনমিটার। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস খাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যৌথ বিনিয়োগ বাড়াতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া জ্বালানি প্রকল্পের প্রাথমিক অনুসন্ধান থেকে শুরু করে পরিশোধন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চলতি সপ্তাহেই মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্টের।





