ইসরাইলে ভোটের সিংহভাগ গণনা শেষ; সরকার গঠন নিয়ে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের অনিশ্চয়তা

আরব দলগুলোই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে
বিদেশে এখন
0

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট কিংবা সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের বিরোধী জোট কারও পক্ষেই সরকার গঠনের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনে সরকার গঠন নিয়ে আবারও বড় ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, নেতানিয়াহুর দল লিকুদের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট এগিয়ে থাকলেও তাদের আসনসংখ্যা কমে ৫৪টিতে নেমেছে। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোটের নতুন দল ইয়াশার ও তার শরিকদের পরিবর্তনকামী বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭-এ। ইসরাইলের পার্লামেন্টে সরকার গঠনে কমপক্ষে ৬১টি আসনের সমর্থনের প্রয়োজন হয়।

উভয় প্রধান জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির আরব দলগুলো সরকার গঠনের ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ামক বা কিংমেকার হয়ে ওঠার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আরব দলগুলোর জোট যৌথ তালিকা এবং রাম রেকর্ডসংখ্যক ভোটার উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাদের আসনসংখ্যা ১৯টিতে উন্নীত করতে যাচ্ছে।

ভোট গণনা চলার মধ্যেই সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন দীর্ঘ মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, লিকুদ একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে এবং দেশের স্বার্থে একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী ডানপন্থী সরকার গঠন করাই এখন একমাত্র করণীয়। পাশাপাশি তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আরব দলগুলোর কোনো ধরনের সমর্থন নিয়ে ইসরাইলে সরকার গঠন করা যাবে না।

অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকোট জানান, দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং নেতানিয়াহুর ব্যর্থ সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের এই আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর সরকার গঠনে তিনি শরিকদের নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করবেন। তবে বিরোধী জোটের ভেতরেই আরব দলগুলোকে কাছে টানা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ায়ির গোলান আরব দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানালেও আইজেনকোটসহ অন্য শীর্ষ নেতারা তাদের আদর্শগত পার্থক্যের কথা তুলে ধরে এমন সমঝোতায় আগে থেকেই অনীহা প্রকাশ করে আসছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের সংঘাত এবং গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের পর ইসরাইলে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। সংঘাত পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সামরিক নীতি নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ এই ভোটে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে। ভোটগ্রহণ শেষে মোট ভোট প্রদানের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর দেশটিতে সর্বোচ্চ।

ইসরাইলের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ভোট গণনা পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি মনে হবে, তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাবেন। মনোনীত সেই নেতা সরকার গঠনের জন্য প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন এবং প্রয়োজনে তা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। তবে নির্ধারিত সময়ে কোনো জোট সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে ইসরাইলকে আবারও নতুন নির্বাচনের মুখে পড়তে হতে পারে।

এএম