১৮ জানুয়ারি, ২০২৬। দক্ষিণ স্পেনের কর্ডোবা প্রদেশের আদামুজ অঞ্চলে মর্মান্তিক বুলেট ট্রেন দুর্ঘটনা। অন্তত ৪৬ জনের প্রাণহানি। এমন শোকের আবহ নিয়ে বছর শুরু করেছিলেন স্পেনের সাধারণ মানুষ। মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে আবারও একই পরিণতি। এবার টলেডো প্রদেশে মাদ্রিদ-সেভিল রুটে ঘটেছে আরেক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। একই দিকে আসা দুটি ট্রেনের মধ্যে মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে সংঘর্ষ। হতাহত বহু মানুষ।
উন্নত প্রযুক্তি আর ভালো মাত্রার বিনিয়োগের পরেও হাইস্পিড বুলেট ট্রেন বারবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় প্রশ্নের মুখে পেদ্রো স্যানচেজের বিদায়ী সরকার। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বুধবারের এই দুর্ঘটনার কারণ স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটি।
রেল ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের ভুল সিগন্যালে একটি এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনে আগেই দাঁড়িয়ে ছিলো। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার পুরো সিস্টেমই চলছিল ম্যানুয়াল বা হাতে কলমে। এই সময়ে একজন রেলকর্মীর মারাত্মক ভুলে পেছন থেকে দাঁড়িয়ে থাকা ঐ ট্রেনে ধাক্কা দেয় অন্য ট্রেনটি।
আর বছরের শুরুতে আদামুজ রেল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখানো হয়, রেললাইনের অবকাঠামোগত ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে। প্রশ্ন ওঠে এই অব্যবস্থাপনার দায় তাহলে কার?
হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করলেও, বিদ্যমান লাইনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে পিছিয়ে স্পেন। ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন ফ্রান্স বা জার্মানির তুলনায় রেল রক্ষণাবেক্ষণে অনেক কম বাজেট বরাদ্দ করে আসছে স্প্যানিশ সরকার। লাইনের গুণগত মানও দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
তদন্তে দেখা গেছে, বহু জায়গার রেললাইনের সংযোগস্থলে ফাটল বা ত্রুটি আছে। আদামুজ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও দেখা যায়, রেললাইনের একটি ফাটল অবহেলা করার কারণে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য ট্রেনের ওপর আছড়ে পড়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০২৪-২৫ সালে রেললাইনে ত্রুটি বা ফাটল পাওয়ার হার প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
২০২১ সালে রেলখাত উন্মুক্ত করার পর থেকে একই ট্র্যাকে বিভিন্ন কোম্পানির ট্রেনের সংখ্যা এবং যাতায়াতের ফ্রিকোয়েন্সি ভীষণ বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি লাইনের সক্ষমতা এবং সিগন্যালিং প্রযুক্তির আধুনিকায়ন। এটিও স্পেনের সাম্প্রতিক রেল দুর্ঘটনার বড় কারণ।





