দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানায়, তাদের সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার ওনসান অঞ্চল থেকে পূর্ব সাগরের (জাপান সাগর) দিকে একযোগে প্রায় ১২টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার আশঙ্কায় সীমান্তে নজরদারি ও সামরিক সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। পৃথকভাবে জাপানের কোস্টগার্ডও উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সাগরে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই এলাকার জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
সম্প্রতি বেশ কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিচালিত নতুন দূরপাল্লার নিখুঁত টর্পেডো ব্যবস্থা এবং মাঝারি পাল্লার একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।
কোরীয় উপদ্বীপে সংঘাতমুক্ত অসামরিক অঞ্চলের (ডিএমজেড) সীমান্তে একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনাসদস্য গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকেই এই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। চলতি মাসের শুরুতে সিউল ও জাতিসংঘের যৌথ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, প্রায় এক বছর আগে উত্তর কোরিয়াই সীমান্তে ওই স্থলমাইন পুঁতে রেখেছিল। দক্ষিণ কোরিয়া একে ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে উত্তর কোরিয়াকে অবিলম্বে সামরিক সংলাপে বসার আহ্বান জানায়।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মাইউংয়ের দেয়া প্রস্তাবকে সরাসরি নাকচ করে তীব্র কটাক্ষ করেছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং। তিনি সিউলের এই প্রস্তাবকে ‘প্রহসনের চূড়ান্ত রূপ’ বলে মন্তব্য করেন। সীমান্তে সুনির্দিষ্ট সীমারেখা চিহ্নিতকরণ ও সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রস্তাবের এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি পিয়ংইয়ং।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের সম্ভাব্য সমঝোতার আশঙ্কায় ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে কিম জং উনের সঙ্গে তার অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে, তবে আপাতত কোনো শীর্ষ বৈঠকের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
—রয়টার্স, ফিউচারিজম ও ডিজইটের প্রতিবেদনে অবলম্বনে
 test-768x402.webp)




