মার্কিন অর্থবাণিজ্য সাময়িকী ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নেয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, সোমবার আম্বানির মোট সম্পদ ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৮০ কোটি (৮৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন) ডলারে। এর ফলে বিশ্ব ধনী তালিকায় ২৩তম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। অন্যদিকে ৮ হাজার ৪০০ কোটি (৮৪ বিলিয়ন) ডলারের সম্পদ নিয়ে তালিকায় ২৫তম স্থানে নেমে গেছেন টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের সাবেক প্রধান নির্বাহী ঝাং ইংমিন।
চলতি প্রান্তিকে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মোট আয় বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি হওয়ায় শেয়ারবাজারে বড় উল্লম্ফনের বদলে ইতিবাচক সাড়া মেলে। প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ২৫ হাজার ৫৫০ কোটি রুপি (প্রায় ২৭০ কোটি ডলার), যেখানে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ২১ হাজার ৩৬৭ কোটি রুপি (প্রায় ২৩০ কোটি ডলার)। শক্তিশালী এই আয়ের পর শেয়ারের মান বৃদ্ধি করে অ্যাভেনডাস স্পার্ক। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর এবারই প্রথম রিলায়েন্সের শেয়ারে কোনো ‘হোল্ড’ বা ‘সেল’ সুপারিশ নেই। সোমবার এক দিনেই রিলায়েন্সের বাজারমূল্য বেড়েছে ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের বেশি।
এর আগে অক্টোবরের শেষ দিকে মুম্বাইয়ের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের প্রথম দিনেই রিলায়েন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ারের দাম ২৭ শতাংশ বেড়েছিল। আম্বানির নিয়ন্ত্রণাধীন জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও ছিল ভারতের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ, যা প্রতিষ্ঠানটির ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলার মূল্যায়নে ৩২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করে। প্রতিষ্ঠানটিতে রিলায়েন্সের প্রায় ৬৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। জুনের হিসাব অনুযায়ী, ৫৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি গ্রাহক নিয়ে জিও বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর।
মুকেশ আম্বানির বাবা ধীরুভাই হীরাচাঁদ আম্বানি ১৯৫৭ সালে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ১৭ লাখ কোটি রুপির (প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার) বাজারমূল্য নিয়ে এটি ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠান। পেট্রোকেমিক্যাল, তেল-গ্যাস, টেলিকম, খুচরা ব্যবসা, গণমাধ্যম ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বিস্তৃত। ২০২৬ সালের ফোর্বস গ্লোবাল ২০০০ তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ বৃহৎ পাবলিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রিলায়েন্সের অবস্থান ৫৫তম।
—ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অবলম্বনে





