বোমার এই হুমকির নেপথ্যে কোনো নির্দিষ্ট দেশকে সরাসরি দায়ী করেনি ইউরোপের দেশগুলো। তবে সম্প্রতি ইউরোপীয় কর্মকর্তারা রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড হামলা’ ও নাশকতার যে অভিযোগ তুলে আসছেন, তার সঙ্গে এই ঘটনার সূত্র খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। যদিও মস্কো ও তেহরান উভয়ই এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
আইরিশ বিমান সংস্থা এর লিঙ্গাসের আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে ইতালির রোমগামী একটি ফ্লাইট নিরাপত্তার স্বার্থে পথ বদলে ফ্রান্সের ইভরে বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বুলগেরিয়াতেও তিনটি বিমানকে জরুরি অবতরণ করাতে হয়। এর মধ্যে কোপেনহেগেন ও মাদ্রিদ থেকে আসা দুটি ফ্লাইট সোফিয়ায় এবং লন্ডন থেকে আসা আরেকটি ফ্লাইট প্লোভদিভে অবতরণ করে। এ ছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগগামী চারটি বিমান বোমার হুমকি পেলেও সেগুলোর সত্যতা কম বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি থেকে রোমগামী ফিনএয়ারের একটি বিমানকে ইতালীয় বিমানবাহিনী নিরাপদে প্রহরা দিয়ে নিয়ে যায়। অন্যদিকে পোল্যান্ডের বিমান সংস্থা এলওটির ওয়ারশ থেকে ব্রাসেলসগামী ফ্লাইট নিরাপদে পৌঁছালেও প্যারিসগামী একটি বিমানের উড্ডয়ন স্থগিত করে যাত্রীদের অন্য বিমানে সরিয়ে নেয়া হয়। ইতালীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওয়িজ এয়ারের মিলান থেকে ওয়ারশগামী একটি ফ্লাইটও বোমাতঙ্কের কারণে ভিয়েনায় জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার অন্তত সাতটি বিমান ও একটি প্রমোদতরীতে বোমার ভুয়া হুমকি দেয়া হয়। চলতি সপ্তাহেই ইউরোপের বেশ কিছু দেশের সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেটর ব্যবস্থায়ও সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। বিমানসংক্রান্ত সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সিভিয়েশনের প্রধান নির্বাহী এলিরান আলমোগ বলেন, 'একই সময়ে ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের ফ্রিজ অচল করা এবং বিমানে বোমার হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটছে। মূলত অর্থনৈতিক ক্ষতি করা এবং সরকারি প্রতিক্রিয়ার ওপর নজর রাখাই এসব হামলার উদ্দেশ্য হতে পারে।'





