রোববার টেলিগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, গতকাল (শনিবার, ৭ নভেম্বর) সকালে কোমিশুভাখা এলাকায় এফপিভি ড্রোন দিয়েও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। সেখানে বিমান হামলায় ৫৫ জন নিহত হওয়ার পর টানা সপ্তম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে জানান তিনি।
খারকিভ অঞ্চলের পরিস্থিতিও কঠিন বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। রুশ গোলাবর্ষণে জিতোমির অঞ্চলের ১৪০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে তাপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। জেলেনস্কি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় সব শহর ও জনপদে মেরামতের কাজ চলছে।
তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও জনপদ লক্ষ্য করে ১১৫টি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, প্রায় ১ হাজার ৯০০টি গাইডেড বোমা এবং ৩ হাজারের বেশি আক্রমণকারী ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া।
এসব হামলায় একাধিক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ চলতি বছর তৈরি বলে জানান তিনি। জেলেনস্কি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে জড়িত রুশ কোম্পানিগুলোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়মিত তথ্য দিচ্ছে ইউক্রেন।
গত অক্টোবরেও রাশিয়ার সামরিক উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কয়েকটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কিয়েভ। এসব নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলো ও জি-৭ জোটের নিষেধাজ্ঞার সমন্বয় করার ওপর জোর দেন তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনের আকাশ সুরক্ষায় বিশ্বে যদি পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের সক্ষমতা না থাকে, তাহলে উৎপাদনকেন্দ্রেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো থামাতে হবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২২তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। এ বিষয়ে রাশিয়া এখনো কোনো বক্তব্য দেয়নি। চলমান যুদ্ধের কারণে এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করাও কঠিন।





