বন্ধ বেশিরভাগ হোটেলের মূল ফটক। দোকানপাট খুললেও নেই ক্রেতা। একসময় ব্যস্ত সড়ক হারিয়েছে তার চিরচেনা আমেজ। এ চিত্র কলকাতার মিনি বাংলাদেশ খ্যাত নিউ মার্কেট এলাকার কথা।
‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকারের অভিযানের জেরে এখনো বন্ধ প্রায় তিন শতাধিক হোটেল, গেস্ট হাউস। এতে চিকিৎসা কিংবা ভ্রমণ ভিসায় কলকাতায় গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও মিলছে না মাথা গোঁজার ঠাঁই। অনেক হোটেল-গেস্টরুম খোলা থাকলেও সেগুলোতে রুম পেতে দুই থেকে তিন গুণ বেশি খরচ করতে হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে খাবারের সমস্যা।
বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘পরশুদিন ১১টায় উঠছি, কালকে ১২টার সময় হোটেল থেকে বের করে দিছে। ১০০০ টাকা ভাড়া, ২০০০ টাকা নিছে। কালকে আবার আমাদের পরিচিত শাকিল ভাই এক হোটেলের ব্যবস্থা করে দিছে, ১৫০০ টাকা ভাড়া ২৫০০ টাকা দিয়া ছিলাম। আজকে আবার ছেড়ে দিছে। এই অবস্থা।’
অন্য একজন বলেন, ‘অনেক ভেতরে গিয়ে ঘুরতে ঘুরতে দুই-তিন ঘণ্টা ধরে ঘুরে আমি রাত ১টার পরে আমি একটা রুম পেয়েছি। তারপরে আমি খুব কষ্ট হয়েছে আমার এখানে এসে। আমার থাকার যে একটা মানুষের সুবিধা থাকে, সেটা আমি পাচ্ছি না।’
হোটেল বন্ধ থাকায় বেকায়দায় মেডিকেল-ট্যুরিজম পেশায় নিয়োজিতরাও। বাংলাদেশ থেকে আসা বহু রোগীর পরিষেবার দায়িত্ব সামলান তারা। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর তাদের রোজগারেও পড়েছে ভাটা।
আরও পড়ুন:
মেডিক্যাল-ট্যুরিজম কর্মী একজন বলেন, ‘এই যে যারা আসছেন অলরেডি, কারণ এটা তো আর আজকে বললে কাল বন্ধ হয়ে যাবে না, লোকজন প্ল্যান করে থাকে অনেক আগে থেকে। তার ভিসা হয়েছে বা টিকিট হয়েছে। সো, এই যে লোকজনগুলো এসে এখন মুকুন্দপুরে কেউ যাচ্ছেন, কেউ এখানে-ওখানে যাচ্ছেন, ছুটি-ছুটি যাচ্ছেন। তার মধ্যে অনেকে পেশেন্ট আছেন। তো অসম্ভব খারাপ অবস্থা।’
আর বাংলাদেশি পর্যটক কম আসায় প্রভাব পড়েছে কেনাবেচাতেও। যদিও স্থানীয় ক্রেতাদের কারণে তা সহনীয় পর্যায়ে থাকছে বলে দাবি বিক্রেতাদের।
স্থানীয় বিক্রেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ড হয়েছে, আগুন লেগেছে, এই যে লোকেশনটা আছে ওই সাইডটা হোটেল একটু বন্ধ হয়েছে। বাকির বাদবাকি সব হোটেল খোলা আছে। আর বাংলাদেশিও আছে এখনও কয়েকটা।’
গেল সপ্তাহে কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে প্রাণ হারান সাত বাংলাদেশিসহ নয়জন। এর জেরে সরকার নজরদারি বাড়ালে অগ্নিনিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গাফিলতি থাকায় ব্যবসা বন্ধ করে গা ঢাকা দেন বেশিরভাগ হোটেল মালিক।





