স্নায়ু যুদ্ধের পর থেকেই বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিশ্বস্ত বন্ধু রাশিয়া। ১৯৬০-র দশক হতে নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা খাতে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর তালিকায় অন্যতম মস্কো।
এমনকি ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারির তোয়াক্কা না করে, মস্কো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি কিনছে মোদি প্রশাসন। এর জেরে গেল বছর ভারতের ওপর অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক বসায় ওয়াশিংটন।
তবে ইরান যুদ্ধের জেরে ভূরাজনীতি ও অর্থনীতি যখন টালমাটাল, ঠিক তখন গেল বছরে স্বাক্ষর হওয়া প্রতিরক্ষা খাতের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অব লজিস্টিকিস সাপোর্ট বাস্তবায়ন শুরু করেছে মস্কো ও নয়াদিল্লি। পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ পাবে। আল- জাজিরা জানায়, চুক্তির ফলে দেশ দু’টি পরস্পরের সীমানায় তিন হাজার সেনা, পাঁচটি যুদ্ধবিমান ও ১০টি সামরিক বিমান মোতায়েনের অনুমতি পাবে।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তিটি মস্কোকে ভারত মহাসাগরে প্রবেশের সুর্বণ সুযোগ দিচ্ছে। এর ফলে রুশ জাহাজ ও বিমানগুলো এশিয়ার জলসীমায় দীর্ঘদিন ধরে মোতায়েন থাকতে পারবে। এখন পর্যন্ত ভারত মহাসাগরে সামরিক ঘাঁটি বা অন্য কোনো অবকাঠামো নেই মস্কোর।
বিপরীতে, ভ্লাদিভোস্তক থেকে মুরমানস্ক পর্যন্ত আর্কটিক অঞ্চলে প্রবেশের অনুমতি পাবে নয়াদিল্লি। দীর্ঘদিন থেকেই নয়াদিল্লির প্রত্যাশা ছিল, পশ্চিমা দেশগুলোতে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দেয়া। চুক্তিটি শুধু ভারতের শক্তিমত্তারই জানান দেবে না, বরং আর্কটিক অঞ্চলে নয়াদিল্লির উপস্থিতে নিশ্চিতভাবে প্রতিপক্ষ চীনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
গেল বছরের ফেব্রুয়ারি আট বছরের আলোচনা শেষে প্রতিরক্ষা খাতের দ্বিপাক্ষিক এই চুক্তি স্বাক্ষর করে রাশিয়া ও চীন। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হলেও চলতি সপ্তাহে এর বিস্তারিত প্রকাশ করে রাশিয়া।
তবে শুধু রাশিয়া নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে ভারতের। তবে এই প্রথম কোনো বৈশ্বিক পরাশক্তির সামরিক বাহিনীকে নিজেদের ভূমি ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে মোদি প্রশাসন।৭





