স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে ভরাডুবি; বাড়ছে স্টারমারের পদ হারানোর শঙ্কা

কিয়ার স্টারমার
ইউরোপ
বিদেশে এখন
0

স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির জেরে কিয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব পদ হারানোর শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। এরইমধ্যে স্টারমার পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালেও, খোদ লেবার পার্টির অন্দরে বাড়ছে ক্ষোভ। এ অবস্থায় টালমাল ব্রিটেনের রাজনীতি। ফের মাঝপথে বদলে যাবে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী? নাকি সবকিছু মোকাবিলা করে ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন স্টারমার?

ব্রিটিশ রাজনীতির শতবর্ষের পুরনো সমীকরণে ফের বড় ধাক্কা। একসময় যেই রাজনীতির মঞ্চ ছিল শুধু লেবার আর কনজারভেটিভের দখলে, সেখানে এখন জায়গা করে নিচ্ছে ইমিগ্রেশনবিরোধী ‘রিফর্ম ইউকে’ ও ‘গ্রিন পার্টি’। যে নাইজেল ফারাজকে একসময় প্রকাশ্যে ঠাট্টা করেছিলেন ডেভিড ক্যামেরন, সেই ফারাজের দলই এখন জনসমর্থনে কনজারভেটিভদের ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতেই দু’বছর আগে ভূমিধস জয় নিয়ে ক্ষমতায় আসা লেবার পার্টিও এখন চাপের মুখে।

ইউকের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান ক্ষমতাসীন দল সফলতার নমুনা দেখাতে পারেনি। যার কারণে নতুন আর্বিভূত হওয়া দলগুলো একেবারে চুম্বক ওয়েতে ভোটারদের তাদের দিকে আকৃষ্ট করেছে।’

ব্রিটেনের অর্থনীতি সামলাতে গিয়ে বাড়তি চাপে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। জীবনযাত্রার ব্যয়, করের চাপ ও ধীরগতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে নাগরিকদের মাঝে অসন্তোষ বাড়ছে। এছাড়া ব্যবসায় বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে যথেষ্ট সময় লাগবে।

আরও পড়ুন:

ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি বশির আহমদ বলেন, ‘আজকের এই অর্থনৈতিক অবস্থার একমাত্র কারণ হচ্ছে যে, বিগত ১০ বছরে যে, অর্থনৈতিক অবকাঠামোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল তা কিন্তু জাতির জন্য কোনো উপকারে আসেনি।’

তবে লেবার পার্টির ভরাডুবি হলেও, এবারের কাউন্সিল নির্বাচনে ব্রিটিশ বাংলাদেশি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ও বিজয়ের নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহাম, রেডব্রিজ ও বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম— শুধু এই চার প্রশাসনিক অঞ্চলে প্রায় ৮০ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন, আর পুরো দেশে এই সংখ্যা একশরও বেশি।

ইউকে টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার কাউন্সিলর আবদাল উল্লাহ বলেন, ‘এই এলাকায় সবসময় লেবার পার্টি ক্ষমতায় ছিল, এখনো আছে তবে আমাদের ভোট সংখ্যা কমে গেছে। এটার কারণ হচ্ছে আমাদের ন্যাশনাল লেবার পার্টির সঙ্গে আমাদের ইয়াং জেনারেশন অপজিশনে। গাজার যুদ্ধের কারণে তারা বর্তমানে লেবারকে পছন্দ করছে না।’

সবমিলিয়ে বেশ চাপে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। তবে ব্রিটিশ রাজনীতিতে মেয়াদের মাঝপথে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের নতুন নয়। এর আগেও ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কনজারভেটিভ শাসনামলে চার প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন করেছিল, যদিও পরবর্তী নির্বাচনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে দলটিতে।

এসএস