যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফ্রান্সের জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে এই চুক্তির ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।
ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রীর তথ্যমতে, চুক্তির প্রায় ৯৯ শতাংশ বিষয়ে উভয়দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দু’দেশের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার খুব শিগগিরই নতুন চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করতে ভারত সফর করবেন।
এর আগে ভারতসহ কয়েকটি দেশকে জোরপূর্বক শ্রম মোকাবেলায় যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেয়ার জন্য দায়ী করা হয়। সেসময় প্রস্তাবিত এই চুক্তিটির অগ্রগতি থেমে যায়।
আরও পড়ুন:
ভারত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্পকে দিল্লি সফরের আহ্বান জানিয়ে আসছে। বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শিগগিরই ভারত সফরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আমাদের খুব ভালো কিছু আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য চুক্তি করছি। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে অনেক কিছু ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সেরা কাজ করছে। আমাদের ১৯.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি আসছে। আমরা কারখানা তৈরি করছি। প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কিছু তৈরি করছেন। তিনি সেখানে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছেন। আমরা সেই কর্মসংস্থানের প্রশংসা করি। তিনি আমার দীর্ঘকালের বন্ধু। আমাদের সম্পর্ক সবসময়ই চমৎকার ছিল। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।’
গত বছর ট্রাম্প ভারতের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। গত সপ্তাহে মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে তিনজন ভারতীয় নাবিকের নিহত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ট্যাংকারে হামলা চালালে ওমান উপসাগরে এই নাবিকরা নিহত হন। মার্কিন সামরিক বাহিনী ট্যাংকারটির বিরুদ্ধে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর তাদের অবরোধ লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছিল।
জানা গেছে, জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হরমুজ প্রণালিতে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি উত্থাপন করেন।




