দাবানলে পুড়ছে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র; বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি, নিখোঁজ ২৩

দাবানল
ইউরোপ
বিদেশে এখন
0

ইউরোপের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রেও যোগ হয়েছে দাবানল আতঙ্ক। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে এরই মধ্যে পুড়ে গেছে ১৩০০ একর বনভূমি। জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে স্থানীয়দের। এদিকে, স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল শুরুর পর এখনও সন্ধান মেলেনি ২৩ জনের। আহত ও দগ্ধ ৮ জনের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৌসুমি শুষ্ক আবহাওয়া আর তাপপ্রবাহের কারণে স্পেন ছাড়াও দাবানলের কবলে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স, পর্তুগাল ও গ্রিস।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ন্যাশনাল ফরেস্ট। কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে পুরো বনাঞ্চল। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১টার মধ্যে পুড়ে ছাই অন্তত ১৩০০ একর বনভূমি। এর পরপরই এলাকটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেসাস ক্যানিয়ন রোড এবং ইস্ট অ্যাভিনিউ জেড এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত দমকল ইউনিট। চলমান তাপপ্রবাহ এবং আর্দ্রতা হ্রাস পাওয়ায় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় আগে থেকেই জরুরি সতর্কতা জারি ছিলো। তারপরেও ঠেকানো গেলো না এ বিপর্যয়।

এদিকে, ইউরোপের দাবানল পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্রান্স, গ্রিস, পর্তুগাল ছাপিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের শীর্ষে এখন স্পেন। গেল দুই দশকের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে দক্ষিণাঞ্চলীয় আলমেরিয়া প্রদেশের ৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি, যা আন্দালুসিয়া অঞ্চল হিসেবে বেশি পরিচিত।

আরও পড়ুন

দক্ষিণ স্পেনে আগুনে পুড়ে যারা মারা গেছেন তাদের বেশিরভাগই বিদেশি পর্যটক বা নাগরিক। লস গায়ার্দোস ও বেদারের কাছে গাড়ির ভেতর পাওয়া গেছে দগ্ধ লাশ। আন্দালুসিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনেক ভুক্তভোগী শুকনো নদীপথ পেড়িয়ে দাবানল থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বের হতে পারেননি। গাড়ির ভেতরে এবং পথের মধ্যেই মরণফাঁদ দাবানলের কবলে পড়ে প্রাণ যায় তাদের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণাঞ্চলে নামানো হয়েছে সাড়ে ৪০০ দমকলকর্মী। সরিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় ১৫০০ বাসিন্দাকে। তবে এখনও আতঙ্কে ঘুমাতে পারছেন না অনেকেই। রাতে আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমলেও সূর্যোদয়ের পর বাতাসের গতি সঙ্গে তীব্রভাবে ফিরে এসেছে দাবানলের তেজ।

দক্ষিণ স্পেনের একজন বাসিন্দা বলেন, ‘দাবানলের আতঙ্কে সারারাত ঘুমাতে পারিনি। একপর্যায়ে মনে হলো আগুন নিভে গেছে। ভিডিও করে রেখেছি। কিন্তু সূর্য ওঠার পর বাতাস বইতে শুরু করলো আর আগুনের তীব্রতাও বেড়ে গেল।’

স্পেন ছাড়াও দাবানলের কবলে পড়েছে ফ্রান্স, পর্তুগাল ও গ্রিস। ফ্রান্সের আগুন নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করছে ইইউ। পর্তুগাল ও গ্রিসে দাবানলের কারণে ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষ। বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ ইউরোপের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির আশেপাশে ওঠানামা করছে। পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার অভাব থাকায় এ দাবানল আতঙ্ক সহসা শেষ হচ্ছে না।

জেআর