গ্রিনল্যান্ডে বরফ গলার রহস্য খুঁজছেন ৮০ বিজ্ঞানী

গ্রিনল্যান্ডের বরফ
ইউরোপ
বিদেশে এখন
0

গ্রিনল্যান্ডে দ্রুত গলতে থাকা বরফ ইউরোপের জলবায়ুর প্যাটার্নকে প্রভাবিত করে কি না তা অনুসন্ধানে দ্বীপটিতে রওনা দিয়েছেন প্রায় ৮০ জন বিজ্ঞানী ও নাবিকের একটি আন্তর্জাতিক দল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের এই অভিযান থেকে প্রাপ্ত তথ্য জলবায়ু পরিবর্তন ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়ার জন্য মডেলিং প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হবে।

উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের মাঝে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই ভূ- রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ট্রাম্প নিরাপত্তার অজুহাতে বরফে ঢাকা ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি দখলে বেশ কয়েকবার হুমকি দেয়ায় বিশ্বাঙ্গনে বেড়েছে উত্তেজনা। তবে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে খবরের শিরোনামে গ্রিনল্যান্ড।

ইউরোপের বিভিন্ন অংশে অব্যাহত তাপপ্রবাহ ও দাবানলের মাঝেই, গ্রিনল্যান্ডে দ্রুত গলতে থাকা বরফ ইউরোপের জলবায়ুর প্যাটার্নে প্রভাব ফেলছে কি না তা অনুসন্ধানে দ্বীপটির পথে রওনা দিয়েছেন প্রায় ৮০ জন বিজ্ঞানী ও নাবিকের একটি আন্তর্জাতিক দল।

আরও পড়ুন:

যুক্তরাজ্যের জাতীয় সমুদ্রবিজ্ঞান কেন্দ্রের অপারেশনস ইঞ্জিনিয়ার স্যাম স্মিথ বলেন, ‘১৯৯০-এর দশকের তুলনায় গ্রিনল্যান্ড পাঁচগুণ দ্রুত গলছে। এটি কীভাবে গ্রিনল্যান্ডের চারপাশের ফিয়র্ডগুলোকে প্রভাবিত করছে, তা অনুসন্ধানে খতিয়ে দেখা হবে। একইসঙ্গে আটলান্টিকের বৃহত্তর স্রোত ও অন্যান্য বিষয়গুলোও বিবেচনা করা হবে। পরবর্তীতে সংগৃহীত তথ্যগুলো জলবায়ু পরিবর্তন ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়ার জন্য মডেলিং প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হবে।’

আরএসএস- ডেভিড অ্যাটেনবোরোর ক্যাপ্টেন ম্যাট নিল বলেন, ‘আবহাওয়ার প্যাটার্ন খুবই পরিবর্তনশীল। বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে প্রায়শই পূর্বাভাসের গরমিল দেখা যায়। তাই এই সময়ে মাঠে নেমে সরজমিনে তথ্য সংগ্রহ করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

গ্রিনল্যান্ড আইস শিট টু আটলান্টিক টিপিং পয়েন্টস নামের ২০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হিমবাহগুলো কীভাবে গলে সমুদ্রে মিশে যায় এবং এর প্রভাব কী, তা বোঝা। বিজ্ঞানীদের শঙ্কা, গলে যাওয়া মিঠা পানি ঘূর্ণায়মান সমুদ্রস্রোতের ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে, যা আরও চরম আবহাওয়া এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি হতে পারে।

এসএস