যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আরও ৩ সপ্তাহ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পারও লেবাননে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করেনি ইসরাইলি বাহিনী। মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে কাঁপছে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে। এমনকি দক্ষিণ লেবননে তৈরি করা বাফার জোন থেকে সেনাদেরও সরিয়ে নেয়নি ইসরাইল।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো সত্ত্বেও লেবাননে পূর্ণ স্বাধীনতার সঙ্গে সেনারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন খোদ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। যার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘরে ফেরাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতিতেও স্বস্তি ফেরেনি লেবাননবাসীর। ইসরাইলি বাহিনী হামলা অব্যাহত রাখায় যুদ্ধবিরতিকে অর্থহীন আখ্যা দিয়ে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত লেবাননের হিজবুল্লাহও।
আরও পড়ুন:
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে বাস্তুচ্যুত লেবানিজ পরিবারগুলোর জন্য বাড়ি ফেরা নিরাপদ নয় বলে মনে করছে ইউনিসেফ। কারণ অনেক আবাসিক ভবন ও হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত। যেখানে ফিরেও স্বাভাবিক জীবনযান করা কঠিন। তারও পর হমলা আতঙ্কতো আছেই। যা শিশুদের জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার শিশু ইউনিসেফের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন, ‘সবাই বাড়ি ফিরতে চায়। কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে চায় না। কিন্তু যদি আপনার বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বা দখল হয়ে যায় তাহলে মানুষ কোথায় যাবে। অথবা যে এলাকায় ফিরবে সেখানকার হাসপাতালে আর চিকিৎসা দেয়ার উপায় নেই তাহলে কী করণীয় এ সবকিছুই মানুষের পরিস্থিতি খুব কঠিন করে তুলছে। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও এসব ঘটছে।’
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এমনকি বিশ্ববাসী লেবাননকে আরেকটি গাজা হিসেবে দেখতে চায় না বলে ফের সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক বলেন, ‘আমরা নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ দেখছি। আমাদের মহাসচিব বিভিন্ন জায়গায় খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, দক্ষিণ লেবানন বা গোটা লেবানন আরেকটি গাজা হোক তা কেউ চায় না।’
২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত আড়াই হাজার নিহত এবং ১২ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে ছয়জন হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যার দাবি করছে ইসরাইল।





