নাকবার ৭৮তম বার্ষিকীতেও রক্তস্নাত ফিলিস্তিন, ইসরাইল হামলায় নিহত ৭

ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনি গ্রামবাসীরা, ৪ নভেম্বর ১৯৪৮
মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
0

ঐতিহাসিক নাকবার ৭৮তম বার্ষিকীতেও রক্তস্নাত ফিলিস্তিন। গতকাল (শুক্রবার, ১৬ মে) গাজায় হামলা চালিয়ে নারী ও শিশুসহ সাতজনকে হত্যা করেছে ইসরাইল। যদিও আইডিএফের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল অক্টোবরের হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হামাসের এক শীর্ষ নেতা। যাকে এই অভিযানে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীত প্রতিযোগিতা ইউরোভিশনে ইসরাইলিদের অংশ নিতে দেয়ার প্রতিবাদে প্রতীকী বিক্ষোভ করেছে আয়োজক দেশ অস্ট্রিয়ার ফিলিস্তিনিপন্থীরা। একই কারণে ইউরোভিশনের সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ডের।

শোক আর অধিকার আদায়ের দিন ঐতিহাসিক নাকবার ৭৮ বছর পরেও আগুনে পুড়ছে ফিলিস্তিন, বইছে রক্তের ধারা। দৃশ্যটি গাজার মূল শহরের।

শুক্রবার গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবন ও গাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায় ইসরাইলি সেনারা। আইডিএফের দাবি, এই হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, ২০২৩ এর অক্টোবরে হামাসের হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে। এবং অভিযানে তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৫ এর মে মাসে মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর সামরিক প্রধান হয়েছিলেন আল-হাদ্দাদ। যদিও এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হামাস।

তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে।

আরও পড়ুন:

এইসব ঘটনা প্রবাহের মধ্যেই চাপা পড়ে গেছে নাকবার ৭৮তম বার্ষিকী। কংক্রিটের স্তূপে পরিণত হওয়া গাজার স্কুলগুলোও সাক্ষী দিচ্ছে, আরও অনেকগুলো বছর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না উপত্যকার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

এদিকে ফিলিস্তিন সংকট, নাকবা দিবস ছাড়াও আলোচনার কেন্দ্র এখন বিশ্বের বৃহত্তম সংগীত প্রতিযোগিতা ইউরোভিশন। ১৯৫৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় ইউরোপ ও এর বাইরের দেশগুলোর শিল্পীরা নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে মৌলিক গান পরিবেশন করেন। এরই চূড়ান্ত পর্ব আজ, যেখানে আছে ইসরাইলের প্রতিযোগীও।

এরইমধ্যে আয়োজক দেশ অস্ট্রিয়ায় শুরু হয়েছে প্রতীকী প্রতিবাদ। রাজধানী ভিয়েনায় ইউরোভিশন বিরোধী কনসার্ট আয়োজনে অংশ নিয়েছেন ফিলিস্তিনপন্থী নাগরিকরা। এই মঞ্চ গণহত্যাকারীদের নয় এমন শিরোনাম রাখা হয়েছে আয়োজনের। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এরইমধ্যে ইউরোভিশনের ৭০তম আসরের সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ডসহ পাঁচ দেশ। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকার এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন স্পেনের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো স্যানচেজ। বলেছেন, ইতিহাস মনে রাখবে স্পেন ন্যায়ের পক্ষে ছিল।

এসএস