মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বাজেট থেকে জ্বালানি আমদানিতে চার বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। এ অবস্থায় দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে আরও দুই বছর সময় লাগবে। এমনটাই জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রেখে গেছে বিগত সরকার।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পাওয়ার সেক্টর, এনার্জি সেক্টর, ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো বাকি রেখে রেখে চলে গেছে। মাশাল্লাহ। এগুলো আবার সব পে করতে হচ্ছে। সুতরাং, এটা বিরাট মানে আর্থিকভাবে একটা ভীষণ আমরা ঋণাত্মক অবস্থায় আছি। এখান থেকে আমরা প্রথমে আমরা এখান থেকে বের হতে হবে, তারপরে অর্থনীতি সামনের দিকে যাবে।’
স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয়, ৩০ শতাংশ। বাকি ৭০ শতাংশ ব্যয় হয় জনগণের পকেট থেকে। কিন্তু সেই ৩০ শতাংশের সুফলও পান না রোগীরা।
এক্ষেত্রে আশার বাণী শোনালেন অর্থমন্ত্রী। আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, দরিদ্র মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সাথে ব্যবস্থাপনায় যাবে সরকার। বেসরকারি হাসপাতালগুলো সেবা দিবে, বিল দেবে সরকার। তবে বরাদ্দ বাড়ালেও অতীতের মতো যেন নয়ছয় না হয় এবং সাধারণ মানুষ যেন এর সুফল পায় সেটি নিশ্চিতের নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এইবার আমাদের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ আমরা অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছি। যাদের দরিদ্রতার কারণে চিকিৎসা করতে অসুবিধা হচ্ছে, তাদেরকে আমরা এমনকি উপর স্তরের যে, টারশিয়ারি আরও উপরে যে ট্রিটমেন্টগুলো দরকার, সেগুলোর জন্য আমরা প্রাইভেট সেক্টরের জন্য একটা অ্যারেঞ্জমেন্টে যাচ্ছি।’
মেডিক্যাল কলেজগুলোর শিক্ষার মান ধরে রাখার নির্দেশনা দিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মেডিকেলে ভর্তিতে কোনো তদবির চলবে না। অতীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খুব দ্রুত মেডিকেল কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ শেষের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
আমির খসরু বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট হয় বাংলাদেশে একমাত্র রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে। যে আমার কাছে কত তদবির যে আসে এই এই মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য। আমি সবাইকে তো একটা উত্তর, আমি কারও জন্য তদবির করতে রাজি নাই। আপনি যদি কোয়ালিফাই করেন, আপনার মেয়ে অথবা ছেলে যদি কোয়ালিফাই করে, তাহলে তারা অ্যাডিশন হবে।’
অনুষ্ঠানও মা ও শিশু হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সরকারিভাবে জায়গা বরাদ্দ, কলেজের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও হাসপাতালের জন্য একটি এমআরআই মেশিন দিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন করে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।





