ইতিহাসের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় আয়োজনে বিদায় খামেনিকে

তেহরানে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনের পাশে রাখা হয়েছে নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিনও
মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
0

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান। ছয় দিনের আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সূচনা তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায়। এরপর কোম শহর থেকে খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেয়া হবে বুধবার (৮ জুলাই)। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হবে খামেনিকে। ছয় দিনের এই আয়োজনে থাকছেন শতাধিক দেশ ও প্রায় ৯০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।

৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভার সামলেছেন, হয়ে উঠেছিলেন আস্থার বাতিঘর- সেই সর্বোচ্চ নেতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে প্রস্তুত ইরান। কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় সিক্ত ইরানের শহর নগর বন্দর।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হওয়ার চার মাসের বেশি সময় পর শুক্রবার (৩ জুলাই) পবিত্র জুমার দিনে প্রথম জনসমক্ষে আনা হয় খামেনির মরদেহ। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসল্লা মসজিদে সর্বোচ্চ নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। ছিলেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও।

এই শেষ বিদায়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু শনিবার (৪ জুলাই), চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। শনিবার থেকে রোববার (৫ জুলাই) পর্যন্ত ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানী তেহরানেজুড়ে চলবে খামেনির শেষ বিদায় যাত্রা।

খামেনির শেষ বিদায়

জুলাই ৩: বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন

জুলাই ৪-৫: গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জনসাধারণের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন

জুলাই ৬: রাজধানী তেহরানে খামেনির শেষ বিদায় যাত্রা

জুলাই ৭: জামকারান মসজিদে জানাজার নামাজ

জুলাই ৮: ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে শোক মিছিল

জুলাই ৯: মাশহাদে ইমাম রেজার পবিত্র মাজারে দাফন

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তেহরানের দক্ষিণে কোম শহরে স্থানান্তরিত করা হবে আয়োজন। সেখানে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান জামকারান মসজিদে হবে জানাজার নামাজ। ইমামতি করবেন শিয়াদের জ্যেষ্ঠ আলেম।

বুধবার খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেয়া হবে। নাজাফ ও কারবালা শহরে শোক মিছিলের পর কারবালায় খলিফা আলীর সমাধিস্থলে আনুষ্ঠানিকতা পালন করে মরদেহ আবার ফিরিয়ে আনা হবে ইরানে। বৃহস্পতিবার জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হবে খামেনিকে। এরপর ইমাম রেজার সমাধিস্থলে তাকে সমাহিত করা হবে।

৯ জুলাই দাফনের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও আরও ৪০ দিন চলবে শোক অনুষ্ঠান। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে খামেনির ছেলে এবং বর্তমান উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি অংশ নিচ্ছেন না বলে জানাচ্ছে ইরানের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম।

এই আয়োজন ঘিরে তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলো শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলের বেশিরভাগ অংশে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি’র তথ্য, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের নানা পর্যায়ে যোগ দিচ্ছেন বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ ও ৯০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।

এর মধ্যে আছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট। এছাড়া অন্যান্য দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি, চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, তুরস্কের উপরাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশের সংসদ স্পিকার।

এছাড়া আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে থাকবেন অর্থনৈতিক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিহারের রাজ্যপাল ও জ্যোষ্ঠ্যতম শিয়া ব্যক্তিত্ব।

এসএস