ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে আরেকটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ইয়েমেন। গেল জুলাইয়ে সৌদি আরব ও হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে। দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে জ্বালানি স্থাপনাসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুথিদের ছোড়া চারটি ড্রোনের পাশাপাশি দেশটির পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে দু’টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস ও প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি জোট। এসময় রিয়াদের বাসিন্দাদের মোবাইলে আকাশপথে হামলার হুমকির সতর্কতা দিয়ে সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। সৌদি জোটের মুখপাত্র জানান, নতুন করে সংঘাত শুরুর পর রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর অন্তত ২০টি হামলার শিকার হয়েছে।
এদিকে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান শহরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী। এতে দুই ক্র নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে সৌদি জোট এক বিবৃতিতে জানায়, হুথিদের হামলায় নয়, কারিগরি ত্রুটির হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সৌদির অভিযোগ তেহরানের উস্কানিতে হুথিরা বার বার হামলা চালাচ্ছে। জবাবে ইরান বলেছে, সৌদিতে হামলার বিষয়ে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা তাদের নেই। সৌদি ও হুথিদের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে সব ধরনের সহায়তার জন্য তেহরান প্রস্তুত বলেও জানান, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা অব্যাহত রয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজে পুতে রাখা নৌ-মাইনের আঘাতে একটি সুপারট্যাংকার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। এটিতে ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছিল।
এছাড়া যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম সংস্থা জানিয়েছে, ইয়েমেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে দু’টি জাহাজের ওপর হামলা হয়েছে। যার মধ্যে একটি টাগবোট আমিরাত উপকূলে দু’টি অজ্ঞাত বস্তু আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, ইয়েমেনের মুকাল্লার কাছে একটি এলএনজি ট্যাংকারে ছোট ডিঙি নৌকা করে আসা কয়েকজন হামলাকারী গুলি চালায়।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে সাত দিনের পরিকল্পনা মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। তেহরান বলছে, এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।





