ভেনেজুয়েলার তেলে নজর ট্রাম্পের, অনাগ্রহ মার্কিন বিনিয়োগকারীদের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভেনেজুয়েলার ডেলি রদ্রিগেজ
উত্তর আমেরিকা , দক্ষিণ আমেরিকা
বিদেশে এখন
0

ভেনেজুয়েলার তেলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচের কথা বললেও, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তেমন একটা সাড়া পাননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তারা বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় এখনও বিনিয়োগ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদিও, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে চান ট্রাম্প। এদিকে ভেনেজুয়েলা থেকে ছেড়ে যাওয়া আরও একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে করাকাস।

নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি রেখে, ভেনেজুয়েলার তেলে আধিপত্য কায়েমে একেবারে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ আওতায় অন্য দেশের তেলবাহী জাহাজকে ভেনেজুয়েলার আশপাশেই ভিড়তে দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। এর ব্যত্যয় ঘটলেই করা হচ্ছে জব্দ। শুক্রবার (৯, জানুয়ারি) ক্যারিবিয়ান সাগর থেকে ওলিনা নামে একটি ট্যাঙ্কার আটক করেছে মার্কিন বাহিনী। এ নিয়ে পঞ্চম ট্যাঙ্কার জব্দ করলো যুক্তরাষ্ট্র।

ভেনেজুয়েলার তেল ভাণ্ডারে রাজত্ব নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তেল পরিশোধনকারী সংস্থা শেভরন, এক্সন, মবিল এবং কনোকো-ফিলিপসের নির্বাহীদের সঙ্গে শুক্রবার হোয়াইট হাউজে বৈঠকও করেছেন ট্রাম্প। এসময় ভেনেজুয়েলার বর্তমান আইন ও বাণিজ্যিক কাঠামোর আওতায় বিনিয়োগ করার মতো পরিস্থিতি নেই উল্লেখ করে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি বিনিয়োগকারীরা।

এক্সন মবিল সিইও ড্যারেন উডস বলেন, ‘আমরা যদি ভেনেজুয়েলায় বিদ্যমান আইন ও বাণিজ্যিক কাঠামোর দিকে তাকাই, তাহলে দেখা যাবে যে বিনিয়োগের অযোগ্য। তাই সেখানকার বাণিজ্যিক কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হবে। আইনি ব্যবস্থাও টেকসই বিনিয়োগ সুরক্ষা থাকতে হবে এবং দেশের হাইড্রোকার্বন আইনে পরিবর্তন আনতে হবে।’

তবে জীর্ণ-শীর্ণ তেল শিল্পকে চাঙ্গা করার কথা উল্লেখ করে, সংস্থাগুলোকে ভেনেজুয়েলায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে চাপ অব্যাহত রাখেন। দিয়েছেন নিরাপত্তা গ্যারান্টিও।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কাজ করব। কোনো কোম্পানিগুলো আসবে, আমরা তাদের ভেতরে যেতে দেব, সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। পরিকল্পনা হলো তাদের সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য কমপক্ষে ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা। ভেনেজুয়েলাও সম্মত হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিশোধন এবং বিক্রি শুরু করবে। যা অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহত থাকবে।’

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তবর্তীকালীন প্রশাসনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চমৎকার যোগাযোগ অব্যাহত বলে জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস রাইট।

আরও পড়ুন:

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, ‘আমরা তাদের তেল এখন বেশি দামে বিক্রি করছি। পরে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত অর্থ আমরা ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। বিনিময়ে তারা তাদের দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে, অপরাধ কমাতে এবং আবারও আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে কাজ করছে। তবে এতে কিছুটা সময় লাগবে।’

এরপর সুর আরও নরম করে অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্টও জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে ভেনেজুয়েলা।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলি রদ্রিগেজ, বলেন, ‘আমি গতকাল বলেছিলাম, ভেনেজুয়েলার জনগণ পারমাণবিক শক্তিধর দেশের এই আগ্রাসনের যোগ্য ছিলো না। এর জন্য আমাদের প্রতিক্রিয়া হবে কূটনৈতিকভাবে। হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা। অবশ্যই তা কূটনৈতিকভাবে মুখোমুখি হয়ে ভেনেজুয়েলার শান্তি, স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য। এর লক্ষ্যে আমরা শান্তির কূটনীতি অনুসরণ করব।’

এদিকে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বুধবার আটলান্টিক মহাসাগর থেকে আটক করা রুশ পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কারের দুই রাশিয়ান ক্রু সদস্যকে মুক্তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এএম