কারাকাসে মাদুরোকে তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর, ট্রাম্পের নজর এখন গ্রিনল্যান্ডের দিকে। দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একের পর এক মন্তব্যের জেরে, জটিল হচ্ছে ভূ-রাজনীতির সমীকরণ।
তবে হঠাৎ করে গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের মরিয়া হয়ে ওঠার পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন কে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে আসে রোনাল্ড লাউডার নামে এক প্রসাধনী ব্যবসায়ীর নাম।
প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের স্কুলজীবনের এ বন্ধুই সর্বপ্রথম প্রেসিডেন্টের কাছে দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব করেন। সেসময় এটি নিয়ে হোয়াইট হাউজের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন ট্রাম্প। যদিও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি কেউই। তবে ব্যবসায়ীটির প্রস্তাবটি মনে গেঁথে যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের। তার পরামর্শেই প্রথম মেয়াদে গ্রিনল্যান্ডে প্রতিনিধি দল পাঠান ট্রাম্প।
কিন্তু কেন ট্রাম্পকে এ প্রস্তাব দেন লাউডার। এতে তার ফায়দায় বা কী? বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, তিন কারণে গ্রিনল্যান্ডের দখল চান ট্রাম্প ও তার বন্ধু।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাব দিলে অনেকে হাস্যকর ভেবে উড়িয়ে দিলেও, প্রেসিডেন্টের পক্ষে সাফাই গান লাউডার। জানান, কৌশলগত দিক বিবেচনায় এর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের। সেসময় বরফ ঢাকা অঞ্চলটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত অস্ত্র ও আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য দুর্লভ খনিজের বিশাল ভান্ডারের কথা উল্লেখ করেন লাউডার।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্পকে শুধু প্রস্তাব দিয়েই থেমে থাকেনি লাউডার, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্কটিক অঞ্চলটিতে বিনিয়োগ করেছেন তিনি। ডেনমার্কের গণমাধ্যমের খবর, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গ্রিনল্যান্ডে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক একটি কোম্পানি। এর মধ্যে যুক্ত আছেন লাউডার।
বিনিয়োগকারীরা এরই মধ্যে বাফিন বে দ্বীপ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল ‘লাক্সারি স্প্রিংওয়াটার’ রপ্তানি শুরু করেছে। এছাড়া আর্কটিক অঞ্চলটির বৃহত্তম হ্রদ থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেরও পরিকল্পনা করছে। বিশ্লেষকদের অভিমত, গ্রিনল্যান্ড কেনার পথকে সহজ করতেই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিতে লাউডার বিনিয়োগ করছেন। নুকের দুই প্রভাবশালীর সঙ্গেও দারুণ সখ্যতা রয়েছে লাউডারের।
শুধু গ্রিনল্যান্ড নয়, ইউক্রেনের বিরল খনিজের নিয়ন্ত্রণ নিতেও ট্রাম্পকে প্রস্তাব দেন লাউডার। দ্বিতীয় মেয়াদে কিয়েভের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরল খনিজ চুক্তিতেও ভূমিকা রাখেন তিনি।
পারিবারিক ব্যবসার পাশাপাশি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সময়ে উপ সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও এর পরে অস্ট্রিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পান লাউডার। এছাড়া ১৯৮৯ সালে নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান তিনি। বর্তমানে ওয়ার্ল্ড জিউইশ কংগ্রেসের সভাপতি এ ধনকুবের।





