অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়াহ’র বিরুদ্ধে দু’টি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষী বা ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টি। তারা দু’জনই বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন এবং ফ্লোরিডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, তারা দু’জন একে অপরকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। জামিল লিমন ঘটনার সময় অভিযুক্ত আবুঘারবিয়াহ এবং অন্য এক রুমমেটের সাথে অফ-ক্যাম্পাস অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে থাকা জিপিএস লোকেশন এবং লাইসেন্স প্লেট রিডার ডেটা ব্যবহার করে তারা লিমনের ফোন এবং আবুঘারবিয়াহর গাড়ি ট্র্যাক করেন। এর মাধ্যমে একটি ব্রিজের কাছে পৌঁছালে সেখানে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন:
প্রসিকিউটরদের দাখিল করা রিপোর্ট অনুযায়ী, লিমনের শরীরে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। এর দুই দিন পর, গত রোববার পুলিশ ওই ব্রিজের নিকটবর্তী একটি জলাশয় থেকে আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করে, যা নাহিদা বৃষ্টির বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশি তদন্তে চাঞ্চল্যকর কিছু প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে। ঘটনার কয়েক দিন আগেই অভিযুক্ত আবুঘারবিয়াহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চেয়েছিলেন, একটি মানুষের মরদেহ প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে কী ঘটবে। চ্যাটজিপিটি উত্তরে জানিয়েছিল যে, তার এই প্রশ্নটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং উদ্বেগের কারণ। প্রসিকিউটরদের প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ রান্নাঘর থেকে শুরু করে আবুঘারবিয়াহর শোবার ঘর পর্যন্ত রক্তের দাগ পায়। তার ঘরের কার্পেটও রক্তে ভেজা অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া অ্যাপার্টমেন্টের ট্র্যাশ কম্প্যাক্টর থেকে লিমনের মানিব্যাগ, ক্যাম্পাস আইডি কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, চশমা এবং রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়। লিমনের শোবার ঘরে তদন্তকারীরা নাহিদা বৃষ্টির আইডি কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ডও খুঁজে পান।
আরও পড়ুন:
শুনানির সময় অভিযুক্ত আবুঘারবিয়াহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার আইনজীবী জেনিফার স্প্র্যাডলি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ফ্লোরিডার আইনে আবুঘারবিয়াহ মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন, যদিও রাষ্ট্রপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার ঘোষণা দেয়নি। এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এবং তাদের পরিবারকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।





