যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ২৪ বছরের তরুণ মেয়র নির্বাচিত

তরুণ কাউন্সিলর ফ্রাঙ্ক ভেলেজ
উত্তর আমেরিকা
বিদেশে এখন
2

অগ্নিকাণ্ডের দুর্যোগ মোকাবিলায় বর্তমান মেয়রের চরম ব্যর্থতার জেরে নিউ জার্সির বেলভিল টাউনশিপে বড় ধরনের রাজনৈতিক চমক দেখালেন ২৪ বছর বয়সী এক তরুণ। গত ৩ মে একটি তোশক কারখানায় লাগা ভয়াবহ ১৪-অ্যালার্ম অগ্নিকাণ্ড এবং তার পরবর্তী অব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে জনরোষের মুখে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তরুণ কাউন্সিলর ফ্রাঙ্ক ভেলেজ। এর মাধ্যমে শহরটিতে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা মেয়র মাইকেল মেলহামের আট বছরের শাসনের অবসান ঘটলো।

নির্বাচনি ফলে দেখা গেছে, ফ্রাঙ্ক ভেলেজ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিদায়ী মেয়র মেলহামের চেয়ে ১০০০ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেছেন। তরুণ এই রাজনীতিবিদ ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে বেলভিল বোর্ড অব এডুকেশনের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কনিষ্ঠ মেয়র হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।

গত ৩ মে বেলভিলের ওই তোশক কারখানার আগুন পুরো একটি ব্লককে গ্রাস করে নিয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৫০টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট কাজ করলেও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা প্রকট হয়ে ওঠে।

আগুনের সময় স্থানীয় পুলিশ বিভাগে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না এবং বাতাসের মাধ্যমে উড়ে আসা আগুনের ফুলকিতে আশপাশের কয়েক ব্লকের বসতবাড়িতে আগুন ধরে যায়। অথচ মেয়র মেলহাম এক বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন যে বাসিন্দাদের জন্য কোনো ঝুঁকি ছিল না। মেয়রের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন:

নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিকে বিদায়ী মেয়র মেলহাম তরুণ প্রার্থী ভেলেজকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কুৎসা ছড়ালে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। ভেলেজ এখনো তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন, এমন বিষয়কে পুঁজি করে মেলহাম প্রচারণা চালালে তার পাল্টা জবাব দেন ভেলেজ।

তিনি জানান, তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছোট বোনের দেখাশোনার জন্যই তিনি পরিবারের সঙ্গে থাকেন। মেয়রের এই ব্যক্তিগত আক্রমণকে বেলভিলের ভোটাররা ভালোভাবে নেননি, যার প্রতিফলন দেখা গেছে ব্যালট বাক্সে।

জয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ফ্রাঙ্ক ভেলেজ বলেন, ‘এই জয় বেলভিলের মানুষের জয়।’

তিনি শহর থেকে নোংরা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি দূর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জনসেবামূলক কাজে মনোনিবেশ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা আশা করছেন, নতুন এই তরুণ মেয়রের নেতৃত্বে শহরের জীবনযাত্রার মান এবং দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।

এসএস