ইরান-রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র; হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ কিছু গণমাধ্যমও

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
উত্তর আমেরিকা
বিদেশে এখন
0

ইরানের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও অন্যান্য বিধিনিষেধ সম্প্রসারণ করেছে দেশটি। শুক্রবার ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামে পরিচিত এই বিলে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর মতো মার্কিন গণমাধ্যমগুলোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করেছেন তিনি।

রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরালো হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে শুক্রবার ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’এ সই করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন আইন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও পাঁচ বছরের জন্য বহাল রাখছে।

অবশ্য এটি তেহরানের ক্ষেত্রে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা কাঠামো তৈরি করছে না। বরং ১৯৯৬ সালের ইরান স্যাংশানস অ্যাক্টের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে ইরানের জ্বালানি খাতের সঙ্গে নির্দিষ্ট ধরনের ব্যবসায় জড়িত বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছড়ি বহাল থাকবে।

শুধু তাই নয় ইরানের তেল ক্রয়, পরিবহন, অর্থায়ন কিংবা বিমা ব্যবসা এবং দেশটির কিছু পেট্রোলিয়াম প্রকল্পে বিনিয়োগ- এসব কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে থাকবে। তবে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা বাড়ানোর মধ্যেই দেশটির সঙ্গে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে বলে আবারও জোরালো মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘মানুষ চায় না ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক এবং তা থাকবেও না। এই যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে চলেছে। আর যখন এটি শেষ হবে, তখন গ্যাসের দাম আগের পর্যায়ে নেমে আসবে কিংবা তার চেয়েও কম হবে।’

এদিকে রাশিয়ার ক্ষেত্রে আইনটি আরও বিস্তৃত। এতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা, ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতেও বিভিন্ন বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে।

তবে ইরান ও রাশিয়াই নয় ট্রাম্পের রোষানলে পড়েছে মার্কিন শীর্ষ তিন গণমাধ্যম-সিএনএন, এমএসনাউ ও পলিটিকো। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘বৈরী’ ও ‘ভুয়া খবর’ পরিবেশনের অভিযোগ তুলে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোকে হোয়াইট হাউজে নিষিদ্ধ করলেন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ভুয়া খবর পড়তে ও দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। সিএনএন-এর দিকে তাকাবেন, দেখবেন তা শুধুই ভুয়া খবর পরিবেশন করে। এ কারণেই তাদের রেটিং ভালো না। এছাড়া এমএস নাউ এবং পলিটিকোর নিউজ দেখলে বুঝতে পারবে তারাও ভুয়া সংবাদ দিচ্ছে। কিন্তু এটা তাদের এক ধরনের রাজনীতি।’

তবে এসব গণমাধ্যম ছাড়াও ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ওপর একই ধরনের কড়াকড়ি আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। অবশ্য তার এমন ঘোষণায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব, নিউইয়র্ক ট্রাইমস, সিএনএনসহ আরও অনেক সংবাদ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এমনকি ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর জন্য নতুন এক চ্যালঞ্জে হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এসএস