আজ (রোববার, ২৪ মে) দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেয়ার পর আদালত মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণ করেন। দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করতে সশরীর সাক্ষ্য গ্রহণের পাশাপাশি ভার্চুয়ালি ভিডিও কলেরও সহায়তা নেয়া হয়।
দীর্ঘ শুনানি ও মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় দেন। জরিমানার তিন লাখ টাকা আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে দেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মেহেরপুর নারী ও শিশু দমন এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন ফাঁসির রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন:
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু আবাদি মাঠে তার বাবাকে খাবার দিতে যাচ্ছিল। পথে শাকিল হোসেন শিশুটিকে দেশিয় ধারালো অস্ত্র (হাসুয়া) দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পাটখেতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটির চিৎকারে ধর্ষক পালিয়ে যায়।
পরে ভুক্তভোগী শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারকে বিষয়টি জানালে গ্রামবাসী শাকিলকে আটকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে শাকিলকে উদ্ধার করে আটক করে। এই ঘটনায় শিশুর বাবা ইছানুল হক বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তখন শাকিলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন।
ঐতিহাসিক এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার। সাংবাদিকদের তারা জানান, দ্রুততম সময়ে এই বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ায় তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। অন্যদিকে, দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেনের আইনজীবী জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।





