রাজশাহীর আদালতে ৭১ হাজার মামলা; বিচারক সংকটে বাড়ছে জট

জেলা জজ কোর্ট ভবন, রাজশাহী
এখন জনপদে
আইন ও আদালত
0

এজলাস ও বিচারক সংকটসহ নানা কারণে মামলার জট বাড়ছে রাজশাহীর বিভিন্ন আদালতে। বিচারাধীন প্রায় ৭১ হাজার মামলা, নিষ্পত্তিতে দেরি হওয়াই দুর্ভোগে বিচারপ্রার্থীরা। গত এক দশকে বেনামি মামলার পরিমাণ দ্বিগুণ হলেও বাড়েনি বিচারকের পদ। আদালতের উন্নয়ন আর ও বিচারকের স্বল্পতা জানিয়ে আবেদন দেয়া হয়েছে প্রধান বিচারপতি ও আইন মন্ত্রণালয়ে।

সময় গড়িয়ে যায় তবু সমাধানের পথ পায় না আলাউদ্দীন। ১২ বছর ধরে জমির মামলা নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে ধর্না দিচ্ছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছি গ্রামের ষাটোর্ধ এই বৃদ্ধ। একইভাবে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা জাহানারা বেগমও বিচার পেতে ৬ বছর ধরে ঘুরছেন কোর্টের বারান্দায়।

চারঘাটের বিবাদী কৃষক মো. আলাউদ্দীন বলেন, ‘দশ বছর কেটে গেলে মামলার পেছনে। কোনো সমাধান আসেনি। কোনো মীমাংসা হয়নি। শুধু আমাদের টাকা অপচয় হচ্ছে।’

রাজশাহীর নয়টি উপজেলা থেকে শত শত বিচারপ্রার্থী আসেন বিভিন্ন আদালতে। অপেক্ষা আর উপেক্ষায় সময় কাটে দেওয়ানি, পারিবারিক, ফৌজদারি আদালতের প্রাঙ্গণে। দ্রুতবিচার ও জেলা দায়রা জজ আদালতে দিন দিন মামলার সংখ্যা বাড়ছে। আদালতে মামলার তুলনায় নিষ্পত্তিতে গতি কমায় বছরের পর বছর ধরে বাড়ে খরচের হিসেব, বিচারের অপেক্ষায় থেকে নিঃস্ব হয় প্রান্তিক মানুষেরা, বাড়ে দেনার দায়।

বিচারপ্রার্থীরা জানান, অনেক ভোগান্তিতে আছেন তারা। বছরের পর বছর কেটে গেলেও মিলছে না সমাধান।

বিভিন্ন আদালতের তথ্যমতে, রাজশাহীর জেলা ও মহানগর আদালতে ৭১ হাজার মামলা বিচারাধীন। আইনজীবীরা বলছেন, বিচার কার্যে আদালতের আন্তরিকতার কমতি নেই। তবে এজলাস সংকট, বিচারকের অভাব ও লম্বা সময়ে মামলার ডেটসহ নানা দুর্ঘটনায় এই জট প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

আইনজীবীরা জানান, তাদের বিচারকের কমতি রয়েছে। অনেক লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। ৫০০টির মতো মামলার পেছনে থাকেন একজন বিচারক।

বার অ্যাসোসিয়েশানের মতে বিগত ২০ বছরে গায়েবি মামলা ও করোনা সময়ের জট এখনো টানতে হচ্ছে আদালতকে। তবে এর সমাধানে সুপ্রিমকোর্ট ও আইনমন্ত্রণালয়ে লিখিত দাবি জানানোর পর দ্রুতই সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি এসেছিলেন। ওনাকে আমরা মৌখিকভাবে বলেছিলাম যে আমাদের এখানে আদালতে বিচারকের সংখ্যাও কম, সেটা বৃদ্ধি করতে হবে। সেইসাথে অবকাঠামো যে সমস্যা এজলাস ভবন বৃদ্ধি করার জন্য বলেছিলাম। তো উনি আমাদেরকে এপ্রিশিয়েট করেছেন এই সমস্যা সমাধানে আশ্বাস দিয়েছেন যে যথাসময়ে উনি সরকারের সাথে কথা বলে এটা বিস্তারিত চেষ্টা করবেন, সমাধান করার চেষ্টা করবেন।’

বর্তমানে রাজশাহীর ৫২টি আদালতে ১০ জন বিচারকের পদ শূন্য রয়েছে। তাদের মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১৪টি বিচারিক পদের বিপরীতে আছেন ১০জন। চিফ ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল আদালতে ২৮টি পদের বিপরীতে আছেন ২২ জন।

এফএস